📌 এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তিহীন জীবন তঞ্চঙ্গা মোরগ ও কুকুরের ডাক অবিকল নকল করে বিস্ময়ে মুগ্ধ করছেন মানুষকে। জীবনের প্রতিভা স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের চেন্নাইয়ে, যেখানে তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন
ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ভেসে এলো মোরগের ডাক। তারপরই শোনা গেল কুকুরের ঘেউ ঘেউ। চারপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখা যায়নি। শব্দগুলো আসছিল ২২ বছরের তরুণ জীবন তঞ্চঙ্গার কণ্ঠ থেকে। তার এই অভিনব প্রতিভা দেখে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন দর্শকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জীবন তঞ্চঙ্গা নামের ২২ বছরের তরুণ মোরগ ও কুকুরের ডাক অবিকল নকল করতে পারেন
- 📌 তার বাবা-মাকে হারানোর পর থেকেই জীবন ছন্নছাড়া হয়ে পড়েন
- 📌 এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপনে রয়েছে সীমাবদ্ধতা
- 📌 ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা
- 📌 জীবনের স্বপ্ন নিজের প্রতিভাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া
📰 বিস্তারিত
জীবন তঞ্চঙ্গার জন্ম রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারোয়া ইউনিয়নের শালবাগান পাড়ায়। ছোটবেলাতেই হারান বাবা-মাকে। এক ভাই ও এক বোন থাকেন ভারতের চেন্নাইয়ে। জীবনের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে কাটে তার দিন। বেশিরভাগ সময় থাকেন খাগড়াছড়িতে। এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপনে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।
কিন্তু জীবনের এই প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। নিজের কণ্ঠের বিস্ময়কর প্রতিভাকে ধরে রেখেছেন তিনি। মোরগের ডাক দিলে মনে হয় কাছেই কোনো মোরগ ডাকছে। আবার কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনলে উঠোনের আড়ালেই যেন কোনো কুকুর দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হয়। কয়েক মুহূর্তের এই পরিবেশনায় চারপাশের আবহই বদলে যায়। কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ হেসে ওঠেন, আবার কেউ উৎসাহ দিয়ে হাততালি দেন।
জীবন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি মোরগ ও কুকুরের ডাক নকল করতে পারেন। মানুষের আনন্দ দেখে নিজেরও ভালো লাগে। নিজের এই প্রতিভার স্বীকৃতি পেয়েছেন ভারতের চেন্নাইয়ে। চিকিৎসার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে নিজের কণ্ঠের অভিনব প্রতিভা তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে অনেকেই তাকে বকশিশ দেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি।
"ছোটবেলা থেকেই মোরগ ও কুকুরের ডাক নকল করতে পারি। মানুষের আনন্দ দেখে নিজেরও ভালো লাগে। জীবনের গল্পে প্রাপ্তির চেয়ে না-পাওয়ার তালিকাই দীর্ঘ। কিন্তু নিজের প্রতিভাকে আঁকড়ে ধরেই খুঁজে নিয়েছি আনন্দের একটি পথ।"
জীবনের স্বপ্নও খুব বড় কিছু নয়। নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি চান তিনি। চান, তার মতো একজন প্রতিভাবান তরুণকে যেন কেউ একটু সুযোগ দেয়। একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পেলে তার কণ্ঠ আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা, ফারোয়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জীবন তঞ্চঙ্গা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর, ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!