📌 জাপানের একদল বিজ্ঞানী পুরুষ ইঁদুরের জিন পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রী ইঁদুর সৃষ্টি করেছেন। ক্রিসপার প্রযুক্তির সাহায্যে ওয়াই ক্রোমোজোম অপসারণ করে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে
জাপানের ইয়ামানাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁরা পুরুষ ইঁদুরের জিন সম্পাদনা করে সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রী ইঁদুর সৃষ্টি করেছেন। দ্বিলিঙ্গীয় ক্লোনিং নামের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ইঁদুরগুলো প্রজননক্ষম এবং দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের ইয়ামানাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তাকাসি ইশিউচির নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় পুরুষ ইঁদুরের ওয়াই ক্রোমোজোম অপসারণ করে স্ত্রী ইঁদুর সৃষ্টি করা হয়েছে
- 📌 ক্রিসপার-ভিত্তিক ‘ওয়াই-কাট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরুষ ভ্রূণ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়েছে
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী শোগো মাতোবা জানান, জন্ম নেওয়া স্ত্রী ও পুরুষ ক্লোন ইঁদুরগুলো নিজেদের মধ্যে প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছে
- 📌 বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রযুক্তি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে
📰 বিস্তারিত
জাপানের ইয়ামানাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তাকাসি ইশিউচির নেতৃত্বে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ইঁদুরের জিনগত উপাদান পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রী ইঁদুর সৃষ্টি করা সম্ভব। ‘দ্বিলিঙ্গীয় ক্লোনিং’ নামের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পুরুষ ভ্রূণ থেকে ওয়াই ক্রোমোজোম সম্পূর্ণ অপসারণ করেছেন। ফলে জন্ম নেওয়া ইঁদুরগুলো স্ত্রী লিঙ্গের এবং সম্পূর্ণ প্রজননক্ষম।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এ। বিজ্ঞানী ইশিউচি জানান, ‘আমরা ভেবেছিলাম নিষেকের পরপরই যদি ওয়াই ক্রোমোজোম সরিয়ে নেওয়া যায়, তবে লিঙ্গ পরিবর্তন সম্ভব। এটি মূলত কৃত্রিম উপায়ে লিঙ্গ রূপান্তর।’ প্রকৃতিতে জেলিফিশ ও হাঙ্গরের মতো কিছু প্রাণী প্রাকৃতিকভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গবেষকেরা এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।
গবেষণায় প্রথমে একটি পুরুষ ইঁদুরের রক্তের কোষ থেকে ডিএনএ নিয়ে অন্য একটি ডিম্বাণুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর ‘ওয়াই-কাট’ নামক ক্রিসপার-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরুষ ভ্রূণের ওয়াই ক্রোমোজোম কেটে বাদ দেওয়া হয়। এই ভ্রূণগুলো গর্ভধারক স্ত্রী ইঁদুরের দেহে প্রতিস্থাপন করার পর জন্ম নেওয়া সবকটি বাচ্চা ইঁদুরই স্ত্রী লিঙ্গের এবং এদের বাবার জিনগত ক্লোন হিসেবে পরিচিত।
"আমরা ভেবেছিলাম নিষেকের পরপরই যদি ওয়াই ক্রোমোজোম সরিয়ে নেওয়া যায়, তবে লিঙ্গ পরিবর্তন সম্ভব। এটি মূলত কৃত্রিম উপায়ে লিঙ্গ রূপান্তর।"
গবেষণাদলের সদস্য শোগো মাতোবা জানান, জন্ম নেওয়া স্ত্রী ও পুরুষ ক্লোন ইঁদুরগুলো নিজেদের মধ্যে প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এক বছরের বেশি সময় ধরে সুস্থভাবে বেঁচে রয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা সংস্থা ‘রিভাইভ অ্যান্ড রিস্টোর’-এর গবেষক বেন নোভাক এই গবেষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রাণীর মাত্র এক বা দুটি নমুনা বা সংগৃহীত টিস্যু রয়েছে, তাদের প্রজননপ্রক্রিয়া সচল রাখতে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাকাসি ইশিউচি, শোগো মাতোবা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: একাধিক স্ত্রী ইঁদুরের জন্ম হয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!