📌 আজ শনিবার বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্লাজায় মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা উদ্বোধন হয়। ১৭৯টি স্টলে ১৫০টি প্রকাশক অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪টি বিদেশি প্রকাশক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথি ছিলেন
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব প্লাজা ও সানের সড়কে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা উদ্বোধন হয়। সিরাতুন নবী (সা.) হিজরি ১৪৪৭ উপলক্ষে এই মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বইমেলায় পবিত্র কোরআন, হাদিস ও দেশ-বিদেশের ইসলামি বইয়ের বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭৯টি স্টল ও ১৫০টি প্রকাশক অংশ নিচ্ছে মেলায়, যার মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪টি বিদেশি প্রকাশক (লেবানন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে)।
- 📌 মেলা ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন ১১টা থেকে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে (ছুটির দিনে ১০টা থেকে ১০টা পর্যন্ত)।
- 📌 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন কারী হাবিবুর রহমান।
- 📌 প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
- 📌 ৪০ থেকে ৭০% কমিশন দিচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রকাশকরা নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী ২৫% থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন দিচ্ছেন।
- 📌 মেলায় ২০০টি ইসলামি ভাবধারার ফিকশন বই প্রকাশ করেছে রাহনুমা প্রকাশনী (১৩ বছরের প্রতিষ্ঠান)।
📰 বিস্তারিত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব প্লাজার সামনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনসংলগ্ন সড়কে। মেলার কাঠামো তৈরি হয়েছে সড়কের দুই পাশে ছাউনি দিয়ে। প্রথম দিনের মতো স্টলগুলোতে সাজসজ্জা চলছিল। মসজিদের দোতলার পূর্ব প্লাজার বেশিরভাগ স্টলে দেশি বইপুস্তক সাজানো হয়েছে, দক্ষিণ প্রান্তে বিদেশি প্রকাশনীর স্টল রয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই মেলায় প্রথমবারের মতো বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। লেবানন, মিসর ও পাকিস্তানের মোট চারটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘গত ৩০ বছরে আমাদের দেশে আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদে উচ্চমানের অগ্রগতি হয়েছে। এ মেলায় সেই অনুবাদিত বইগুলো পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি প্রকাশকেরা অংশ নেওয়ায় মেলার বৈচিত্র্য ও গুরুত্ব বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি বিদেশি প্রকাশককে আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হবে।’
স্বাগত বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস সালাম খান সভাপতিত্ব করেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আখতার হোসেন প্রামাণিক, বাংলাদেশের প্রকাশকদের প্রতিনিধি আহমদ রফিক, লেবাননের প্রকাশক হিশাম আবদুর রহিম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব ইসমাইল হোসেন বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মিসরের রাষ্ট্রদূত উমর ফাহমি উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি বক্তব্য দেননি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক খলিলুর রহমান।
উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় কিছু বেচাকেনা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল শিক্ষার্থী সাফায়েত তৌসিফ মেলায় এসে প্রাচ্যবিদদের ইংরেজি ভাষার ইসলাম চর্চা বইটি কিনছেন। তিনি জানান, গেন্ডারিয়া বাসা থেকে এসেছেন গবেষণার কাজে লাগতে এমন বই খুঁজতে। প্রকাশকরা মেলায় বিশেষ কমিশন দিচ্ছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাদের বইতে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছে। প্রকাশকরা নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী কমিশন নির্ধারণ করছেন।
"গত ৩০ বছরে আমাদের দেশে আরবি থেকে বাংলায় অনুবাদে উচ্চমানের অগ্রগতি হয়েছে। এ মেলায় সেই অনুবাদিত বইগুলো পাবেন। বিদেশি প্রকাশকেরা অংশ নেওয়ায় মেলার বৈচিত্র্য ও গুরুত্ব বেড়েছে।"
— ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব প্লাজা ও সানের সড়ক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, মুয়াজ্জিন কারী হাবিবুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুস সালাম খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৯টি স্টল, ১৫০টি প্রকাশক, ৪টি বিদেশি প্রকাশক, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মেলা, ৪০-৭০% কমিশন, ২৫% থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!