📌 গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামীকাল আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামীকাল ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে
- 📌 ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের ঘোষণা
- 📌 আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হবে
- 📌 দেশে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার
- 📌 জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর। এটি মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তারা গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট সরকার কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে গুম প্রতিরোধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে পারবে না।
‘গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কিছু মানুষ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের খোঁজ এখনও মেলেনি। তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ শতাধিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!