📌 খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও প্রকট। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানিতে লোনাপানির অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দুই দশকে হৃদরোগের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে
খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক রাজীব চৌধুরী ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাওয়ার পানিতে উচ্চমাত্রার লবণাক্ততা মানুষের রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানিতে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মিশে যাওয়ায় সংকট তীব্রতর
- 📌 উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে লবণাক্ততার প্রভাব সাধারণ অঞ্চলের তুলনায় অত্যন্ত স্পষ্ট
- 📌 বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ উপকূলীয় বা তার কাছাকাছি অঞ্চলে বসবাস করেন
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৭৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লবণাক্ত পানি পানকারীদের রক্তচাপ গড়ে ৩.২২ মিলিমিটার-এইচজি বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক রাজীব চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও প্রকট। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ডা. রজত দাশগুপ্ত জানান, বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বা শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও পানির সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি।
গবেষণা দলটি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কেনিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের ৭৪ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা ২৭টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে। ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা লবণাক্ত পানি পান করছেন, তাঁদের সিস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ৩.২২ মিলিমিটার-এইচজি এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ২.৮২ মিলিমিটার-এইচজির বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
অধ্যাপক রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লোনাপানির অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় খাওয়ার পানিতে নোনতা স্বাদ টের না পাওয়া গেলেও মানুষ অজান্তেই প্রতিদিন ক্ষতিকর সোডিয়াম গ্রহণ করছে।’ তিনি আরও জানান, আগামী দুই দশকে উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ এবং আনুষঙ্গিক হৃদরোগের ঝুঁকি আরও ব্যাপক ও ভয়াল রূপ নিতে পারে।
‘খাওয়ার পানির লবণাক্ততার সঙ্গে সরাসরি করোনারি হৃদরোগ কিংবা স্ট্রোকের মতো দীর্ঘমেয়াদি কার্ডিওভাসকুলার রোগের সম্পর্ক নিয়ে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ঘাটতি রয়েছে।’ — অধ্যাপক রাজীব চৌধুরী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, ইউরোপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক রাজীব চৌধুরী, ডা. রজত দাশগুপ্ত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ কোটি মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করেন, ৭৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ, ২৭টি গবেষণা, ৩.২২ মিলিমিটার-এইচজি রক্তচাপ বৃদ্ধি, ২৬ শতাংশ ঝুঁকি বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!