📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস ও কর্মকর্তাদের বারবার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়টি সরিয়ে নিতে হচ্ছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র নদীভাঙনের মুখে বিদ্যালয়টির ভবনের অংশবিশেষ হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবন ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোরের পাখির একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে
- 📌 বিদ্যালয়টির ভবনের বেড়া ও তিনটি জানালা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে
- 📌 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গতকালও বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছিল, ভোরে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে শ্রমিকদের সহায়তায় মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
- 📌 বিদ্যালয় রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি বলে জানান প্রধান শিক্ষক
- 📌 গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে অবস্থিত ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ভবনের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টির বেড়া ও তিনটি জানালা হারিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গতকালও বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। ভোরের দিকে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের এটিও স্যারকে বিষয়টি অবহিত করেন। তাঁর পরামর্শে ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।
বিদ্যালয় রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, একটি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। ফেললে হয়তো বিদ্যালয়টির এই পরিণতি দেখতে হতো না।’ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘টিও, এটিও, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন জানান, নদীভাঙন শুরুর পর থেকেই প্রতিটি বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে ভাঙন শুরুর খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ‘খবর পাওয়ামাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।’
‘গতকালও স্কুলে পাঠদান চলেছে। ভোরের দিকে ভাঙন তীব্র হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এটিও স্যারকে জানাই। তাঁর পরামর্শে ১৪ জন শ্রমিক নিয়ে বিদ্যালয়ের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করি।’ — বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ আগস্ট (প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন), ১৪ জন (শ্রমিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!