📌 রাজশাহীতে আমনের মৌসুমেও সারের তীব্র সংকট চলছে। ডিলারদের অব্যবস্থাপনা ও অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা বারবার খালি হাতে ফিরছেন। অভিযোগের পরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় আমনের ভরা মৌসুমেও সারের তীব্র সংকট চলমান রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকেরা এক ডিলারের দোকান থেকে আরেক ডিলারের কাছে ছুটছেন। অনেক ক্ষেত্রে দোকান সারা দিন বন্ধ থাকায় তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অভিযোগের মুখে বদলি, অভিযান ও তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও রোববার পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীতে আমনের মৌসুমেও সারের তীব্র সংকট চলছে, কৃষকেরা ডিলারদের কাছে সার না পেয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন
- 📌 রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়
- 📌 রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকায় বিসিআইসি সার ডিলার আব্দুল গাফফারের দোকান তিন দিন ধরে বন্ধ থাকায় কৃষকেরা সার সংগ্রহ করতে পারছেন না
- 📌 গত বৃহস্পতিবার চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার সার জব্দ করা হয়
- 📌 সারের সংকট নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে এখনো পৌঁছায়নি
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকায় বিসিআইসি সার ডিলার আব্দুল গাফফারের ‘মেসার্স মুনলাইট কৃষি বিতান’ বিক্রয়কেন্দ্রে গত তিন দিন ধরে কৃষকেরা সার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন। নতুন কসবা গ্রামের কৃষক গোলাম পাঞ্জাতন জানান, তিনি এবার ১১ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত জমিতে এক ছটাক সারও দিতে পারেননি। আলীমগঞ্জ গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, তিনি সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করলেও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছেন না।
গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের ডিলার নজরুল ইসলামের বিক্রয়কেন্দ্রে যান গোলাম পাঞ্জাতন। সেখানে সার নিতে আসা গোদাগাড়ীর চাপাল গ্রামের কৃষক আতাউল হোসেন বলেন, তাঁর চার বিঘা জমিতে এখনো সার দিতে পারেননি। তিনি জানান, সাধারণত রাজাবাড়ি এলাকার এক ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করলেও এবার সেখান থেকেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
সারের সংকট ও অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও অভিযান বাড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার একই দিনে চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার সার জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. খালেদুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির সদস্য করা হয় রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মিতা সরকার এবং তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদকে। কমিটি শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
"সার সংকট নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। যে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ডিলারদের জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজশাহীতে যাতে সারের সংকট আরও তীব্র না হয়, সে জন্য বাড়তি সার চাওয়া হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, আলীমগঞ্জ, গোদাগাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, আব্দুল গাফফার, মোস্তফা কামাল হোসেন, মিতা সরকার, সাইফুল্লাহ আহমেদ, কাজী শহিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বিঘা, ১০ লাখ টাকা, ৩ দিন, ৪ প্রতিষ্ঠান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!