📌 ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল একজন নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন
ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা একজন নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদানের জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন
- 📌 প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড
- 📌 আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ
- 📌 দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন নাসির মোল্যা (২৬), তারক চন্দ্র মণ্ডল (২৬) ও নাসির মোল্যা (৩৬)
- 📌 ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটায় রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন— মাগুরার মহম্মদপুর থানার বাবুখালী গ্রামের বাবু মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডল (২৬) এবং সোরাপ মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (৩৬)।
মামলার এজাহার অনুসারে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাসির মোল্যা ছাত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চান। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির মোল্যা ছাত্রীর গ্রামে এসে তার বাড়ির পাশে একটি বাগানে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছু সময় পর ছাত্রী সেখানে গেলে দেখতে পান নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবক উপস্থিত রয়েছেন।
এজাহার অনুযায়ী, ছাত্রী সেখানে পৌঁছানোর পর নাসিরসহ তিন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি চরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে তিন যুবক পালিয়ে যান। পরদিন ভুক্তভোগী ছাত্রী বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
‘নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। তখন আসামিরা সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং আসামিদের কাছ থেকে ধারণকৃত ভিডিও উদ্ধার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভুক্তভোগী ছাত্রী, বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিনজন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!