📌 ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল প্রেমিকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। ভুক্তভোগী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে
ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১টার দিকে এক মামলার রায় ঘোষণা করেন। ওই মামলায় প্রেমিকসহ তিনজনকে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- 📌 প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড
- 📌 ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে
- 📌 ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন
- 📌 আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির মধ্যে রয়েছেন মাগুরার মহম্মদপুর থানার বাবুখালী গ্রামের বাবু মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে নাসির মোল্যা (২৬) এবং সোরাপ মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (৩৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে মাগুরার মহম্মদপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ির পাশে একটি বাগানে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ছাত্রী সেখানে গেলে নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবককে দেখতে পান। তিন যুবক ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি চরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় আসামিরা ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।
পরদিন ভুক্তভোগী বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের দুই দিনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আহাদুজ্জামান শেখ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
"ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের সময় আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ধারণ করা ভিডিও উদ্ধার করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ছাত্রী, নাসির মোল্যা, বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (আসামি), ১ লাখ টাকা (জরিমানা), ১ বছর (অনাদায়ে কারাদণ্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!