📌 বাংলাদেশের উপকূলীয় ছুরি মাছ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অক্ষম হলেও দক্ষিণ আমেরিকার ইল মাছ নিজের শরীরকে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করে ৮৬০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইল মাছের শরীরের ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা বিশেষ অঙ্গগুলো বিদ্যুৎ তৈরিতে সক্ষম
বাংলাদেশের উপকূলীয় ছুরি মাছ বিদ্যুৎ উৎপাদনে অক্ষম হলেও দক্ষিণ আমেরিকার ইল মাছ নিজের শরীরকে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৮৬০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইল মাছের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা বিশেষ বৈদ্যুতিক অঙ্গগুলোই এই ক্ষমতার মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের উপকূলীয় ছুরি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম লেপ্টুরাক্যান্থাস স্যাভালা (Lepturacanthus savala), যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে অক্ষম
- 📌 দক্ষিণ আমেরিকার ইল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ইলেকট্রোফোরাস ভোল্টাই (Electrophorus voltai), যা সর্বোচ্চ ৮৬০ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম
- 📌 ইল মাছের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকে তিনটি বৈদ্যুতিক অঙ্গ: মেইন অর্গান, হান্টারস অর্গান ও স্যাকস অর্গান
- 📌 একটি ইলেকট্রোসাইট কোষ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মাত্র ০.১ থেকে ১.৫ ভোল্ট হলেও হাজার হাজার কোষ একত্রিত হয়ে বিপুল শক্তি তৈরি করে
- 📌 ইল মাছ নিজের শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলেও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে রক্ষা করতে পারে বিশেষ গঠনের কারণে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত ছুরি মাছের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার ইল মাছের বৈজ্ঞানিক নামেও মিল থাকলেও তাদের বৈদ্যুতিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ আলাদা। ছুরি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম লেপ্টুরাক্যান্থাস স্যাভালা হলেও এটি কোনো বৈদ্যুতিক অঙ্গ বহন করে না। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার নদীতে পাওয়া ইল মাছের তিনটি প্রজাতি—ইলেকট্রোফোরাস ইলেকট্রিকাস, ইলেকট্রোফোরাস ভোল্টাই ও ইলেকট্রোফোরাস ভ্যারি—বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এর মধ্যে ইলেকট্রোফোরাস ভোল্টাই প্রজাতিটি সর্বোচ্চ ৮৬০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা সাধারণ বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক প্লাগের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি শক্তিশালী।
ইল মাছের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা বৈদ্যুতিক অঙ্গগুলো মূলত রূপান্তরিত পেশিকোষ, যাদের বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ইলেকট্রোসাইট। একটি একক ইলেকট্রোসাইট কোষ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মাত্র ০.১ থেকে ১.৫ ভোল্ট হলেও হাজার হাজার কোষ একত্রিত হয়ে স্তম্ভের মতো গঠন তৈরি করে। স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ পেলে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নের চলাচলের মাধ্যমে কোষের ভেতরে-বাইরের বৈদ্যুতিক পার্থক্য মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
ইল মাছ নিজের শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলেও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে রক্ষা করতে পারে বিশেষ গঠনের কারণে। এর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মাথার কাছে গুচ্ছাকারে অবস্থান করে, এবং বৈদ্যুতিক অঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন যে বিদ্যুতের বড় অংশ শরীরের বাইরে পানির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে হৃদযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে তুলনামূলক কম বৈদ্যুতিক পার্থক্য তৈরি হয়।
"একটি কোষ একা তেমন কিছু করতে পারে না। এটি মাত্র ০.১ থেকে ১.৫ ভোল্টের মতো সামান্য শক্তি উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু ইলের শরীরে হাজার হাজার কোষ সারি সারি স্তম্ভের মতো সাজানো থাকে। স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ এলেই সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নের চলাচলের কারণে কোষের ভেতরে-বাইরের বৈদ্যুতিক পার্থক্য মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। তখন হাজার হাজার ছোট ব্যাটারি একসঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল এক বৈদ্যুতিক শকের সৃষ্টি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আমেরিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা (উল্লেখিত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৬০ ভোল্ট, ৮০ শতাংশ, ০.১ ভোল্ট, ১.৫ ভোল্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!