📌 গবেষণায় দেখা গেছে, ডলফিন, হাতি ও তোতাপাখির মতো প্রাণীরা একে অপরকে বিশেষ শব্দ বা শিসের মাধ্যমে ডাকে, যা অনেকটা নামের মতো কাজ করে। মানুষের মতোই সামাজিক প্রাণীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে
প্রাণীরা কি একে অপরকে নাম ধরে ডাকে? বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। দেখা গেছে, ডলফিন, হাতি ও তোতাপাখির মতো কিছু প্রাণী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিশেষ ধরনের শব্দ বা শিস ব্যবহার করে, যা অনেকটা নামের মতো কাজ করে। মানুষের মতোই সামাজিক প্রাণীরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করার সময় এই পদ্ধতি অবলম্বন করে নিজেদের মধ্যে পরিচিতি ও যোগাযোগ রক্ষা করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডলফিনেরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ‘সিগনেচার হুইসেল’ নামে বিশেষ শিস ব্যবহার করে, যা তাদের নামের মতো কাজ করে
- 📌 আফ্রিকান হাতিরা নিচু গুমগুম শব্দের মাধ্যমে একে অপরকে সম্বোধন করে, যার প্রতিটি আলাদা ও নির্দিষ্ট
- 📌 প্রায় ৮০০টি তোতাপাখির ওপর চালানো জরিপে দেখা যায়, অর্ধেক পাখিই মানুষের শেখানো নাম ব্যবহার করতে পারে
- 📌 গবেষক কেলি জাকোলা জানান, ডলফিনেরা দলের সদস্যদের চিনতে ও কাজে সহযোগিতা করতে বিশেষ শিস ব্যবহার করে
- 📌 বিজ্ঞানী লরিন বেনেডিক্টের মতে, তোতাপাখিরা মানুষের কাছ থেকে শেখা শব্দগুলো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে পারে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রাণীদের মধ্যে যোগাযোগের একটি অনন্য মাধ্যম হলো বিশেষ ধরনের শব্দ বা শিসের ব্যবহার। মানুষের মতোই সামাজিক প্রাণীরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করার সময় নিজেদের মধ্যে পরিচিতি ও যোগাযোগ রক্ষায় নামের মতো বিশেষ শব্দ ব্যবহার করে। ফ্লোরিডার ডলফিন রিসার্চ সেন্টারের গবেষক কেলি জাকোলা জানান, ডলফিনেরা দলের সদস্যদের চিনতে ও একসঙ্গে কাজ করার সময় বিশেষ শিস ব্যবহার করে। এই শিসের সুর ও কম্পাঙ্ক শুনেই তারা বুঝে ফেলে কাকে ডাকা হচ্ছে।
আফ্রিকান বুনো হাতিদের নিয়েও গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা দেখেন, হাতিরা একধরনের নিচু গুমগুম শব্দের সাহায্যে একে অপরকে সম্বোধন করে। প্রতিটি হাতির জন্য এই ডাক আলাদা ও নির্দিষ্ট। গবেষক মাইকেল পার্দো জানান, হাতির এই ডাক শুনতে অনেকটা বড় কোনো বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দের মতো। স্পিকারে যখন কোনো হাতির বিশেষ ডাকটি বাজানো হতো, তখন সেই হাতিটি দ্রুত স্পিকারের দিকে এগিয়ে আসত এবং বেশি বেশি সাড়াও দিত।
তোতাপাখিদের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮০০টি তোতাপাখির মধ্যে অর্ধেক পাখিই মানুষের শেখানো নাম ব্যবহার করতে পারে। উত্তর কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লরিন বেনেডিক্ট জানান, তোতাপাখিরা মানুষের কাছ থেকে অনেক শব্দ শেখে। শব্দের আসল অর্থ না বুঝলেও এরা জানে কোন শব্দটা কখন বলতে হবে। জরিপে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান, কেউ ভুল নামে ডাকলে তাঁর তোতাপাখিটি তাকে শুধরে দেয়। অন্য অনেকেই বলেছেন, তাঁদের তোতাপাখি বাড়ির মানুষ ও পোষা কুকুরের নাম সঠিক জায়গায় ব্যবহার করতে পারে।
"ডলফিন একে অপরকে বোঝাতে আলাদা আলাদা শিস ব্যবহার করে। দলের ভেতরে নিজেদের চিনতে কিংবা একসঙ্গে কোনো কাজ করার সময় এরা এই বিশেষ শিস দিয়ে একে অপরকে ডাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আমেরিকা ও আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেলি জাকোলা, মাইকেল পার্দো, লরিন বেনেডিক্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০০ (তোতাপাখি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!