📌 ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দেশের ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো দেশকে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে
ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬: ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সরকার দেশের ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদের পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদ প্রকল্প শুরু হয়েছে
- 📌 ভূমি ব্যবস্থাপনায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের উদ্যোগ
- 📌 আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পুরো দেশকে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার আওতায় আনতে পরিকল্পনা
- 📌 ভূমি জরিপে জনবল সংকট মোকাবিলায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ
- 📌 গত দুই বছরে প্রায় দুই হাজার জনবল নিয়োগ এবং আগামী ছয় মাসে আরও ৫০০ জন নিয়োগের পরিকল্পনা
📰 বিস্তারিত
ভূমি ব্যবস্থাপনায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর জানান, দেশের ভূমি ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভূমি এমন একটি মৌলিক সম্পদ যার সঙ্গে দেশের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় মানুষের সম্পৃক্ততা যেমন ব্যাপক, তেমনি এ খাতে সেবা নিতে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগের সম্ভাবনাও বেশি। ভূমি সেবা নিতে গিয়ে মানুষের যে দুর্ভোগ হয়, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’
মহাপরিচালক আরও জানান, ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার বিষয়ে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যেসব যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমি মাপা হতো, বর্তমানে সেগুলোর পরিবর্তে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০০২-০৩ সালের দিকে যে ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতো, এখন সেগুলো ব্যবহার করা হয় না।
ভূমি জরিপের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জনবল সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত পদের তুলনায় আমাদের জনবল অনেক কম।’ তবে গত দুই বছরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গত দুই বছরে প্রায় দুই হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও প্রায় ৫০০ জন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
জনবল সংকটের কারণে ভূমি জরিপের কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরিপের কিছু কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ২০১২ সালের আগে ভূমি জরিপের প্রাথমিক ফিল্ডওয়ার্কের কিছু অংশ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হতো।
‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকবে এবং মানুষ সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। সব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য মানুষের ভোগান্তি কমানো।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ (উপজেলা), ৬ (জেলা), ১৫ (বছর), ২০০০ (জনবল), ৫০০ (জনবল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!