📌 ঢাকা মহানগরে যানজট নিয়ন্ত্রণে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। পরীক্ষামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ, ট্রাফিক আইন লঘনকারী শনাক্ত ও ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, ড্রোন প্রযুক্তি যানজটের কারণ শনাক্তে সহায়ক হবে
ঢাকা মহানগরে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএমপি পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে ড্রোনের মাধ্যমে
- 📌 ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত ও সতর্কবার্তা প্রদান করা হবে
- 📌 অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে
- 📌 ড্রোন প্রযুক্তি যানজটের কারণ শনাক্ত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হবে
📰 বিস্তারিত
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি একেবারে নতুন একটি ধারণা। তিনি বলেন, অনেক সময় সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করা হলে তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে।
আনিছুর রহমান আরও বলেন, ড্রোনে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হলে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরে বাসগুলো নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে থামে না। এর প্রধান কারণ হলো বাসগুলো মালিকপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। শ্রমিকরা বাস চালায় এবং প্রতিদিন মালিককে টাকা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। ফলে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের রাস্তা ব্লক করে দেয়।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে—সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকা শহরের প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়।
ড্রোনগুলো কী ধরনের কাজ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন- কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’ তিনি জানান, ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, ড্রোন প্রযুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন দিয়েছে। তারা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা যাবে। তিনি আরও জানান, ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডেটা সরাসরি পাওয়া সম্ভব। তবে এজন্য অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন রয়েছে।
"ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দিবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), ডিএমপি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১টি (ড্রোন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!