📌 অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যানবাহনের জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে রাজধানী ঢাকা ক্রমেই 'হিট আইল্যান্ড' হয়ে উঠছে। সরকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বৈদ্যুতিক যানবাহন, সবুজ স্থাপনা ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে
অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাশয়ের স্বল্পতা এবং যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রাজধানী ঢাকা ক্রমেই একটি ‘হিট আইল্যান্ড’-এ পরিণত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, যার ফলে রাজধানীর বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি শহরটির বসবাসযোগ্যতাও কমে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা শহরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারকে চিহ্নিত করেছে সরকার
- 📌 যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ রাজধানীর মোট নির্গমনের ৫৬ শতাংশ
- 📌 সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে
- 📌 চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগে ৫ লাখ ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা
- 📌 রাজধানীর ভবনগুলোয় প্রচলিত গ্লাসের পরিবর্তে তাপ বিকিরণ কমাতে নতুন প্রযুক্তির গ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ
📰 বিস্তারিত
গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ব্যবহারের কারণে রাজধানীতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইডের ৫৬ শতাংশ নির্গত হয়, যা শহরের পরিবেশকে আরও বিপর্যস্ত করছে।
তিনি বলেন, "দ্রুত নগরায়নের ফলে রাজধানীতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি তেলের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি চালিত গাড়ি এবং হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।"
রাজধানীর ভবনগুলোয় ব্যবহৃত প্রচলিত গ্লাসের পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তির ডিজিইউ গ্লাস, স্যান্ডউইচ গ্লাস ও টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এসব গ্লাস তাপ বিকিরণ কমাতে সাহায্য করে, ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও আবাসিক ভবনে এসির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন আবু নাসের চৌধুরী। তিনি বলেন, স্প্লিট ও উইন্ডো এসির পরিবর্তে ভিআরএফ (ভ্যারিয়েবল রেফ্রিজারেট ফ্লো) এবং চিলার এসির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। রাজধানীতে ব্রিকসের ব্যবহার কমিয়ে সলিড ব্লক, হলো ব্লক ও নন ফায়ার ব্রিকস ব্যবহারের উপরও জোর দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, রাজধানীতে জলাশয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। ছোট ছোট পুকুর, লেক ও জলাশয় তৈরি করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে রাজধানীর উষ্ণতা হ্রাস পাবে এবং শহরটির বসবাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) সুমন চাকমা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনে ৫ লাখ ৬২ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগে ৫ লাখ ৫২ হাজার এবং মেট্রোপলিটন জোনের অন্যান্য বিভাগে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
"বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। রাজধানীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. আবু নাসের চৌধুরী, সুমন চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ শতাংশ, ২৫ কোটি, ৫ লাখ ৬২ হাজার, ৫ লাখ ৫২ হাজার, ১০ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!