📌 ঢাকার কয়েকটি দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে প্রাপ্ত চাঁদাবাজির হুমকিমূলক ই-মেইল বিশ্লেষণ করে তা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলীর মতে, মুদ্রা পরিবর্তন, অসঙ্গত সময়সীমা ও একই ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কারণে বার্তাগুলো পরিকল্পিত চাঁদাবাজির ইঙ্গিত বহন করে
ঢাকায় অবস্থিত একাধিক দেশের দূতাবাস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রেরিত চাঁদাবাজির হুমকিমূলক ই-মেইলগুলোকে ভুয়া বলে ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের অভিমত, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব বার্তা প্রেরণ করা হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭ আগস্ট ও ১৯ আগস্ট দুই দফায় একাধিক দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজির হুমকিমূলক ই-মেইল প্রেরণ
- 📌 বিশ্লেষক শিয়ামাক আলীর মতে, বার্তাগুলোতে মুদ্রা পরিবর্তন, অসঙ্গত সময়সীমা ও একই ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কারণে তা ভুয়া প্রমাণিত
- 📌 প্রথম ই-মেইলে পাকিস্তানি রুপিতে ১০ বিলিয়ন টাকা দাবি, দ্বিতীয়টিতে বাংলাদেশি টাকায় একই অঙ্কের দাবি
- 📌 উভয় বার্তায় একই বিকাশ, নগদ ও ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের প্রস্তাব
- 📌 হুমকিতে উল্লেখিত ‘এই সপ্তাহের মধ্যেই ভবনে বোমা হামলা’ এবং অর্থ সংগ্রহের সময়সীমার মধ্যে বৈপরীত্য
📰 বিস্তারিত
ঢাকায় অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদাবাজির হুমকি ও বোমা হামলার বার্তা প্রেরণের ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব বার্তা প্রেরণ করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকে কর্মরত ভূরাজনীতি গবেষক শিয়ামাক আলী দুইটি হুমকিমূলক ই-মেইলের বিশ্লেষণ করে জানান, বার্তাগুলোতে একাধিক অসংগতি রয়েছে, যা এটিকে একটি অপরিণত চাঁদাবাজি প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রথম ই-মেইলটি ১৭ আগস্ট ‘Yusuf Khan’ নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিএসএটি ই-মেইল ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়। দুই দিন পর, অর্থাৎ ১৯ আগস্ট ভিন্ন নাম ও ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে দ্বিতীয় বার্তাটি প্রেরণ করা হয়, যার বিষয় ছিল ‘2nd reminder, soon action’।
দ্বিতীয় ই-মেইলটি রাশিয়ার দূতাবাস, তাদের কনস্যুলার শাখা এবং চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক শাখায় প্রেরণ করা হয়। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলী উল্লেখ করেন, দুই ই-মেইলের প্রেরকের পরিচয় আলাদা হলেও ব্যবহৃত ওয়েবমেইল সেবা (Inbox.lv) এবং ই-মেইল ঠিকানায় ‘noones’ শব্দটির উপস্থিতির কারণে একই উৎসের বার্তা বলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
উভয় ই-মেইলে ব্যবহৃত ভাষা, চাঁদাবাজির ধরন, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির পেমেন্ট তথ্য প্রায় একই হওয়ার কারণে বার্তাগুলোর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ। দ্বিতীয় বার্তায় পূর্ববর্তী তালিকায় আরও দুটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা হয়। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলী জানান, Inbox.lv-এর বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় শুরুতেই মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক না হওয়ায় প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে প্রিমিয়াম সংস্করণ ব্যবহার করলে ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হয়, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
"মুদ্রা বদলে গেলেও অর্থ গ্রহণের প্রায় সব তথ্য একই থাকায় বার্তাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।"
বার্তাগুলোর সবচেয়ে বড় অসংগতি দেখা যায় চাঁদার অঙ্কে। প্রথম ই-মেইলে ১০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি দাবি করা হলেও দ্বিতীয় ই-মেইলে তা পরিবর্তিত হয়ে ১০ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা দাবি করা হয়। মুদ্রা পরিবর্তন সত্ত্বেও বিকাশ, নগদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির একই পেমেন্ট তথ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলী প্রশ্ন তোলেন, কেন পাকিস্তানি রুপি থেকে বাংলাদেশি টাকায় দাবি পরিবর্তন করা হলো, যার কোনো ব্যাখ্যা ই-মেইলে উল্লেখ নেই।
অর্থ আদায়ের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতেও রয়েছে গাণিতিক অসংগতি। প্রথম ই-মেইলে ১২টি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ আদায় হবে ১৮ লাখ টাকা। এভাবে ১০ বিলিয়ন টাকা সংগ্রহ করতে সময় লাগবে ১৫ বছরেরও বেশি। দ্বিতীয় ই-মেইলে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১৪ করা হয়, যার ফলে দৈনিক আদায় দাঁড়ায় ২১ লাখ টাকা। তবুও ১০ বিলিয়ন টাকা সংগ্রহ করতে সময় লাগবে প্রায় ১৩ বছর। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলী বলেন, এই অসংগতি পুরো দাবিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
উভয় ই-মেইলেই বিকল্প হিসেবে পুরো অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে প্রেরণের আহ্বান জানানো হয়। একই Binance অ্যাকাউন্ট এবং একই Bitcoin ওয়ালেট ঠিকানা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলীর মতে, প্রেরকের নাম ও ই-মেইল পরিবর্তন করা হলেও একই ক্রিপ্টো পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহারের কারণে বার্তাগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় ই-মেইলে একাধিক দূতাবাস ও প্রতিষ্ঠানে বার্তা প্রেরণ করা হলেও বারবার ‘your building’ অর্থাৎ একবচনে ‘আপনার ভবন’ বলা হয়েছে। বিশ্লেষক শিয়ামাক আলী জানান, এটি অস্বাভাবিক এবং বার্তাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও হ্রাস করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিয়ামাক আলী (ভূরাজনীতি গবেষক), Yusuf Khan (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ আগস্ট, ১৯ আগস্ট, ১০ বিলিয়ন, ১২টি অ্যাকাউন্ট, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৮ লাখ টাকা, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!