📌 ঢাকা শহরের দ্রুত নগরায়ণের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। সরকারি হিসেবে রাজধানীর ৪১টি ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠ নেই। শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্রিয়তা হারিয়ে যাওয়ার পেছনে মাঠের অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে ব্যয়বহুল কৃত্রিম টার্ফ মাঠ।
ঢাকা শহরের দ্রুত নগরায়ণের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। সরকারি হিসেবে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতে কোনো খেলার মাঠ নেই। ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্রিয়তা হারিয়ে যাওয়ার পেছনে মাঠের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজধানীর ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতে কোনো খেলার মাঠ নেই
- 📌 প্রতি সাড়ে ১২ হাজার বাসিন্দার জন্য প্রয়োজন ২ থেকে ৩টি খেলার মাঠ
- 📌 রাজধানীতে প্রয়োজন প্রায় ৮০০টির বেশি খেলার মাঠ
- 📌 ঢাকায় প্রায় ১০০টি কৃত্রিম টার্ফ মাঠ গড়ে উঠেছে
- 📌 শিশুদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা ও তরুণদের মাদকে আসক্তির অন্যতম কারণ মাঠের অভাব
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসিন্দা মো. আসাদ ৪০ বছরের বেশি বয়সী। তাঁর শৈশব কেটেছে খেলার মাঠে। কিন্তু এখন তাঁর সন্তানদের খেলার জন্য কোনো খোলামেলা জায়গা নেই। এলাকার জমির দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এক ইঞ্চি মাটিও ফাঁকা রাখা হয় না। ফলে শিশু-কিশোররা মোবাইল ফোন বা ভিডিও গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আসাদ মনে করেন, খেলার মাঠের অভাবই শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া এবং তরুণদের মাদকে আসক্তির অন্যতম কারণ।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি মাঠ থাকলেও তা প্রায়ই ব্যবহার অনুপযোগী থাকে। রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুরে মাত্র একটি মাঠ রয়েছে। সেখানে বিকেল ও সন্ধ্যায় বহু খেলোয়াড়ের ভিড় হয়। খেলার সুযোগ পেতে অনেকে সকাল বা দুপুরেও আসে। একই অবস্থা মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক মাঠেও। অনেক ছেলে জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে।
বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি) জানিয়েছে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টিতে কোনো খেলার মাঠ নেই। রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী প্রতি সাড়ে ১২ হাজার বাসিন্দার জন্য ২ থেকে ৩টি খেলার মাঠ থাকা উচিত। সেই হিসাবে রাজধানীতে প্রয়োজন প্রায় ৮০০টির বেশি খেলার মাঠ।
কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নতুন মাঠ নির্মাণ ও পুরোনো মাঠ রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুরা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে শারীরিক সক্রিয়তা হারাচ্ছে।’
মাঠের অভাব মেটাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে ব্যয়বহুল কৃত্রিম টার্ফ মাঠ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, ঢাকায় প্রায় ১০০টি টার্ফ মাঠ রয়েছে। সেখানে দিনে ও রাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ খেলাধুলা করছেন। অফিস শেষে তরুণ-যুবকরা বিনোদনের জন্য টার্ফে যাচ্ছেন। তানজিম হাসান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘খেলা আমাকে প্রশান্তি দেয়। অফিস শেষে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সন্ধ্যায় টার্ফে খেলি।’
‘শিশুরা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। টেলিভিশন-মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে শারীরিক সক্রিয়তা হারাচ্ছে। শুধু শিশুরা নয়, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও দীর্ঘ সময় বাড়িতে অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করছেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আসাদ, সৈয়দা রত্না, তানজিম হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১টি ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠ নেই, প্রয়োজন প্রায় ৮০০টি খেলার মাঠ, প্রায় ১০০টি টার্ফ মাঠ রয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!