📌 ঢাকার বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত জ্বালানি ব্যবহার এবং চালক প্রশিক্ষণের দাবি তুলেছেন। আলোচনা সভায় এই বিষয়গুলো আলোচিত হয়
ঢাকার বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের ৫০ শতাংশ দায়ের কথা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভায় এই বিষয়টি প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সভায় পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, মানসম্মত জ্বালানি ব্যবহার এবং চালকদের প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ — বিশেষজ্ঞদের দাবি
- 📌 দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, মানসম্মত জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি
- 📌 সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান
- 📌 ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান ও গাবতলীসহ এলাকায় বায়ুদূষণ অত্যন্ত বেশি
- 📌 পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইমারত নির্মাণ আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি
- 📌 যানজট কমানোর জন্য সড়কে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ৫০ শতাংশ পরিবহন খাতের দায়ে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় কমানো যেতে পারে। সফিকুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশে আইন অমান্য করাকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হয়, যা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান ও গাবতলীসহ এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, দিনের বেলা ছাড়াও মাঝরাত ও ভোররাতেও বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশনের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া, ভবন নির্মাণকাজ এবং ভারী ট্রাকের চলাচল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, পরিবেশদূষণ রোধে ইমারত নির্মাণ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে নগরবাসীরা কার্যত একটি গ্যাস চেম্বারে বসবাস করছে। তিনি দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অভিযোগ করেন, যারা নিজেরাই ব্যবসায় জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পেছনে তারা দায়ী।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিনিধিরা বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখল হওয়ায় যানজট বাড়ছে, যা যানবাহনের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে তুলছে। তারা দাবি করেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সড়কে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং গতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষের নেতারা বলেন, মানহীন জ্বালানি তেল ও ভেজাল মবিলের কারণে যানবাহন থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমন হচ্ছে। তারা দাবি করেন, জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও কঠোর হওয়া উচিত।
"ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ৫০ শতাংশ পরিবহন খাতের দায়ে। পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় কমানো যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান, গাবতলী, ধানমন্ডি, গুলশান, শাহবাগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ এইচ এম সফিকুজ্জামান (ক্যাব সভাপতি), ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার (ক্যাপস চেয়ারম্যান), আলমগীর কবির (বাপা সাধারণ সম্পাদক), মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান (বিআরটিএ চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ (পরিবহন খাতের দায়), ১০ শতাংশ (স্বাস্থ্যব্যয় কমানো), ৪ নভেম্বর (আলোচনা সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!