📌 সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়ার একটি বস্তিতে সৌরবিদ্যুতে চালিত পানির পাম্পের মাধ্যমে পানির সংকট কিছুটা কমলেও, বাংলাদেশের ৩০টি বস্তির মধ্যে শুধু একটিতে এই ব্যবস্থা রয়েছে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৩ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হলেও, বর্তমান অর্থায়ন ঋণের উপর নির্ভরশীল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মুখে পড়া মানুষদের জন্য সরকারি অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়া বস্তিতে সৌরবিদ্যুতে চালিত পানির পাম্পের মাধ্যমে পানির সংকট কিছুটা কমলেও, দেশের ৩০টি বস্তির মধ্যে শুধু একটিতে এই ব্যবস্থা রয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নের চাহিদা পূরণে ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে অর্থ পৌঁছাচ্ছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়া বস্তিতে সৌরবিদ্যুতে চালিত পাম্পের মাধ্যমে পানির সংকট কিছুটা কমলেও, দেশের ৩০টি বস্তির মধ্যে শুধু একটিতে এই ব্যবস্থা রয়েছে।
- 📌 জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৩ হাজার কোটি ডলার (২৮ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও, বর্তমান অর্থবছরে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ মাত্র ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।
- 📌 সরকারের নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড পেয়েছে মাত্র ১০০ কোটি টাকা, যা জাতীয় চাহিদার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ।
- 📌 বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের বড় অংশ ঋণ হিসেবে আসছে, যা বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে তুলছে।
- 📌 সাতক্ষীরার মিতা রানী দাশের মতো কৃষকদের কাছে আগাম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পৌঁছায় না, যা তাদের জীবিকা ও বাসস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে।
- 📌 জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ১১৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বছরে গড়ে ৮৫০ কোটি ডলারের প্রয়োজন, যার মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে আসার আশা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের আমলাপাড়া বস্তিতে সৌরবিদ্যুতে চালিত পানির পাম্পের মাধ্যমে বস্তির মানুষের পানির কষ্ট কিছুটা কমেছে। স্থানীয় এনজিওর উদ্যোগে এই পাম্প বসানো হয়েছে, কিন্তু এটি শুধু একটি বিন্দু। স্থানীয় লোকজন ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ শহরে প্রায় ৩০টি বস্তি রয়েছে, কিন্তু আর কোথাও এমন ব্যবস্থা নেই। জলবায়ু অর্থায়নের চাহিদা পূরণে ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে অর্থ পৌঁছাচ্ছে না।
বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে ঘর হারিয়ে শহরে আসা মানুষদের জন্য নিরাপদ পানি, বাসস্থান ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা খুবই সামান্য। মাকসুদা বেগম, রাহেলা খাতুনসহ বস্তির নারীরা বলেছেন, আগে পৌরসভার লাইনের পানি আসত দিনে দুইবার, কিন্তু এখন সৌরবিদ্যুতে চালিত পাম্পের মাধ্যমে তারা যথাযথ পানি পাচ্ছেন। তবে এই ব্যবস্থা শুধু একটিতে সীমাবদ্ধ থাকায় বাকি বস্তির মানুষদের পানি সংকট অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি ডলার (২৮ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের প্রয়োজন দেখানো হয়েছে। অথচ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ২৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ মাত্র ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড পেয়েছে মাত্র ১০০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক সরকারি জলবায়ু অর্থের বড় অংশ ঋণ হিসেবে আসছে, যা বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর আর্থিক ও সুদের বোঝা বাড়িয়ে তুলছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মিতা রানী দাশ (৫২) একটি মাছের ঘেরের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি গত বছর দুবার বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। প্রচণ্ড গরমে ঘেরের প্রায় ৩০ শতাংশ মাছ মরে যায় এবং জুলাইয়ের প্রবল বৃষ্টিতে ঘের উপচে নষ্ট হয় বাকি মাছের অধিকাংশ। তিনি বলেন, তাঁর কাছে আগাম আবহাওয়ার কোনো সতর্কবার্তা পৌঁছায়নি। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান। নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বর্ষা মানুষের জীবিকা, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তাকে প্রতিদিন ঝুঁকিতে ফেলছে।
বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও ক্ষতির বোঝা বড়। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বছরে গড়ে ৮৫০ কোটি ডলারের প্রয়োজন, যার মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার আন্তর্জাতিক তহবিল ও উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে আসার আশা করা হয়েছে। তবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ বা নদীভাঙনের ঘটনাকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা ঠিক নয়। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি, ভূমি ব্যবহার, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামোও ক্ষতি বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকির তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি বাড়িয়ে এসব পুরোনো সমস্যাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
“আগে পৌরসভার লাইনের পানি আসত দিনে দুইবার। সেই পানির জন্য লাইন দ্যায়া লাগত। কখন আসব, তার কোনো গ্যারান্টি আছিল না। এখন তো যহন চাই, পানি পাই।” — রাহেলা খাতুন, আমলাপাড়া বস্তির বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ (আমলাপাড়া বস্তি), সাতক্ষীরা (আশাশুনি উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিতা রানী দাশ (৫২), মাকসুদা বেগম, রাহেলা খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: - ৩০টি বস্তি (সিরাজগঞ্জ শহরে) - ২৩ হাজার কোটি ডলার (জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রয়োজন) - ২৮ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা (২৩ হাজার কোটি ডলার) - ৫১ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা (২০২৬–২৭ অর্থবছরে জলবায়ু বরাদ্দ) - ১০০ কোটি টাকা (সরকারের নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড) - ৩০ শতাংশ (মিতা রানী দাশের মাছের ঘেরে গরমে মারা যাওয়া মাছ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!