📌 ভোলার আলীনগর ইউনিয়নে চাঁদা দাবি ও মারধর মামলায় ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমানসহ তার চার ভাইকে জামিন বাতিল করে জেল খাটাতে হবে। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মারামারি ও দাঙ্গার মামলা রয়েছে
ভোলার আলীনগর ইউনিয়নে চাঁদা দাবি ও মারধর মামলায় ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমানসহ তার চার ভাইকে জামিন বাতিল করে জেল খাটাতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলার আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলায় বাদী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রাজমিস্ত্রির ঠিকাদার মো. দুলাল (৪৮)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোলার আলীনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মাকসুদুর রহমানসহ তার চার ভাইকে জামিন বাতিল করে জেল খাটাতে হবে — মো. মাকসুদুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ (৪২), মো. মাহফুজুর রহমান (৩৫), মো. নাজিম (৩৭)।
- 📌 ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর চায়ের দোকানে বসে থাকা মো. দুলালের কাছে আসামিরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে মারধর করে।
- 📌 মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৮ ও ২০০৯ সালে মারামারি ও দাঙ্গার মামলা রয়েছে। তার ভাই মো. রাসেল মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেল খেটেছেন।
- 📌 গাজীপুরে বসবাসরত সাবিনা ইয়াসমিনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে আসার ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
📰 বিস্তারিত
ভোলার আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে। মামলায় বাদী মো. দুলাল বলেছেন, প্রভাবশালী আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোয় তিনি বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অত্যাচার করার সাহস না পায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলীনগর ইউনিয়নের ব্যাপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে তালতলী বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আসামিরা মো. দুলালের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দুলাল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। তৎকালীন সময়ে আসামিরা সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল।
মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ভোলা সদর থানায় মারামারি ও দাঙ্গার মামলা রয়েছে (এফআইআর নং-৪, ০২/০৩/২০১৮; এফআইআর নং-৭৫, ২৯/০৪/২০০৯)। গাজীপুর সদর থানাতেও তার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। এলাকার সূত্র জানায়, মাকসুদুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাকসুদুর রহমান আত্মগোপনে ঢাকার গাজীপুরে চলে যান। সেখানে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে পরিচয় গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে আসেন। সাবিনা ইয়াসমিন খোঁজ নিয়ে ভোলায় আসার পর তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিন (২৯) বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
"প্রভাবশালী আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোয় আমি বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনন্দিত। আমি এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অত্যাচার করার সাহস না পায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা সদর উপজেলা, আলীনগর ইউনিয়ন, সাচিয়া গ্রাম, ব্যাপারী বাজার, তালতলী বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মাকসুদুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ (৪২), মো. মাহফুজুর রহমান (৩৫), মো. নাজিম (৩৭), মো. দুলাল (৪৮), সাবিনা ইয়াসমিন (২৯)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ ভাই, ৬নং ওয়ার্ড, ৫০ হাজার টাকা, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!