📌 কারাগারে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনে নেই স্বাভাবিকতা। কারাগারের ভেতরে থাকা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে কারাগারে থাকা শিশুর সংখ্যা ৩১২
কারাগারের ভেতরে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনে নেই স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা মিলল এমনই কয়েকজন শিশুর। তাদের মধ্যে একজন মেয়েশিশু কারারক্ষীদের দেওয়া নাম ধারণ করে বেড়ে উঠছে কারাগারের ভেতরেই। তার মা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাগারের ভেতরে থাকা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কারাগারে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা দেশে ৩১২, যার মধ্যে ১৪৬ জন মেয়েশিশু
- 📌 কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৮ জন নারী বন্দীর সঙ্গে রয়েছে ৫২টি শিশু
- 📌 কারাগারে থাকা শিশুদের অধিকাংশেরই বাইরের জগতের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই
- 📌 কারাগারের ভেতরে থাকা শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ২৬টি কারাগারে
- 📌 কারাগারে থাকা শিশুদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা মিলল এমনই কয়েকজন শিশুর। তাদের মধ্যে একজন মেয়েশিশু কারারক্ষীদের দেওয়া নাম ধারণ করে বেড়ে উঠছে কারাগারের ভেতরেই। তার মা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাগারে আসার সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে কারাগারের ভেতরেই প্রসববেদনা ওঠায় ঘাসের ওপর জন্ম হয় মেয়েটির। কারারক্ষীরা ঘাসের সঙ্গে মিলিয়ে শিশুটির নাম রাখেন।
কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, কারাগারে ৪৮ জন নারী বন্দীর সঙ্গে রয়েছে ৫২টি শিশু। কোনো কোনো মায়ের একাধিক সন্তান। অনেক শিশুর জন্ম কারাগারে, বেড়ে ওঠাও সেখানে। বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। গত ১৪ জুলাই কারাগারটিতে ৭০১ নারী বন্দী ছিলেন। এর মধ্যে হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ১৭০ জন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬৯ জন এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৩০ জন।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে একটি শ্রেণিকক্ষে দেখা মিলল চারজন খুদে শিক্ষার্থীর। তাদের মধ্যে একটু বড় যে মেয়ে, সে গান শোনাল—‘মোরা যদি ডানাওয়ালা পাখি হইতাম/ ওই মদিনা দেখার লাগি উড়ে যাইতাম।’ মদিনা দেশের সীমানা পেরিয়ে বহু দূরের স্থান। তার চারপাশের উঁচু দেয়ালের ওপাশটা দেখতেও শিশুটির ‘ডানা’ই লাগবে। কেননা বাইরে পা রাখার অনুমতি নেই তার।
"মাকে যদি দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে আবদ্ধ পরিবেশে শিশুদের মানসিক উন্নয়ন ও বিকাশ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কারারক্ষীরা, মায়েরা, শিশুরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১২ (শিশু), ৪৮ (নারী বন্দী), ৫২ (শিশু), ৭০১ (নারী বন্দী), ১৭০ (হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!