📌 চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় দৈনিক চাহিদার মাত্র ৫৫ শতাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামীকাল রোববার নতুন এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করছে সরবরাহের ওপর
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আর কোনো উন্নতি ঘটেনি। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর কাছে এসেছে মাত্র সাড়ে ১৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অথচ চট্টগ্রামের দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাস চাহিদা: প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ: সাড়ে ১৭ কোটি ঘনফুট (৫৫ শতাংশ)
- 📌 ঘাটতি: সাড়ে ১৪ কোটি ঘনফুট
- 📌 সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজন: দৈনিক অন্তত ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস
- 📌 আগামীকাল রোববার নতুন এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর হিসাব অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবারও প্রায় একই পরিমাণ গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আবাসিক, শিল্প ও অন্যান্য খাতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে সব খাতের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।
তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক মো. শোয়েব বলেন, আগামীকাল রোববার নতুন এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। কার্গোটি এলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে এর জন্য অন্তত এক দিন অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও জানান, দৈনিক অন্তত ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা গেলে বর্তমান সংকট অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর। স্বাভাবিক সময়ে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে গত ২১ জুলাই মহেশখালীর মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায় এবং চট্টগ্রামে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।
বর্তমানে মহেশখালীর সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে চালু থাকলেও এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আংশিক চালু রয়েছে। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না থাকায় টার্মিনালটির মজুত কমতে থাকে এবং গ্যাস সরবরাহও কমিয়ে দেওয়া হয়। গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় পর্যায়েও গ্যাসের ঘাটতি বেড়েছে।
"নতুন এলএনজি কার্গো এলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে এবং চট্টগ্রামেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা। নয়তো আরও কিছুদিন এমন পরিস্থিতি থাকবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শোয়েব (পেট্রোবাংলা পরিচালক), কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ কোটি ঘনফুট (চাহিদা), ১৭ কোটি ঘনফুট (সরবরাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!