📌 ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পের পর কর্ণফুলী নদীর গতিপথ পরিবর্তনে জন্মে চাক্তাই খাল। সেই খালের পাশে গড়ে ওঠে খাতুন বিবির নামে পরিচিত বাজার, যা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই এলাকার উত্থান জড়িয়ে আছে ইংরেজ কর্মচারীর স্ত্রীর নামের সাথে
১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বিকেল পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামে ভূমিকম্পের আঘাত লাগে। সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় ১৫টি বিকট শব্দের মতো কামানের গর্জন শোনা যায়। ভূমিকম্পের তীব্রতা তখন চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতিকে বদলে দেয়। কর্ণফুলী নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়, নতুন ভূমি জন্মে এবং সেই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠে নতুন বসতি ও বাণিজ্য কেন্দ্র। সেই ভূমিকম্পের বিবরণ লিখে তৎকালীন ইসলামাবাদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান হ্যারি ভেরেলস্ট ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর হেনরি ভ্যানসিটার্টের কাছে পাঠান। সেই বিবরণ ১৭৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রিটিশ জার্নাল *ফিলোসফিক্যাল ট্রানজেকশনস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি*-তে প্রকাশিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিলের ভূমিকম্পের পর কর্ণফুলী নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং নতুন ভূমি জন্মে, যা বাণিজ্য কেন্দ্র খাতুনগঞ্জের জন্ম দেয়
- 📌 চাক্তাই খালের পাশে গড়ে ওঠা বাজারটি ইংরেজ কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রী খাতুন বিবির নামে পরিচিতি পায়
- 📌 খাতুনগঞ্জের বাজার থেকে শুরু করে চাক্তাই, আছদগঞ্জ ও কোরবানিগঞ্জ মিলে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, মসলা ও গমসহ নানা পণ্যের বড় অংশের বেচাকেনা হয় এই এলাকায়
- 📌 ইতিহাসবিদ হারুন রশীদের মতে, ভূমিকম্পের পর খালের পূর্ব অংশে পলি জমে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়, যা আজকের খাতুনগঞ্জের ভিত্তি
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের ভূগোলের ইতিহাসে ১৭৬২ সালের ভূমিকম্প একটি মাইলফলক। সেই দিনের ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল এমন যে, চাক্তাই খালের পাশে নতুন ভূমি জন্মে। সেই ভূখণ্ডে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বাণিজ্য কেন্দ্র। ইতিহাসবিদদের মতে, সেই সময়ের ইংরেজ কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রী খাতুন বিবির নামে এই এলাকাটি পরিচিতি পায়। তার জমিতে গড়ে ওঠা বাজারটি ধীরে ধীরে খাতুনগঞ্জ নামে পরিচিতি পায়।
চাক্তাই খালের গুরুত্ব ছিল চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক যোগাযোগের মূল পথ। ১৮১৮ সালে স্কটিশ জেনারেল জন চিপের মানচিত্রে চাক্তাই খালের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই মানচিত্রে দেখা যায়, চাক্তাই খালের পাশে চকবাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তৎকালীন শহরের একটি অংশ। কর্ণফুলী নদী ও চাক্তাই খালের সংযোগস্থলে গড়ে ওঠে নতুন বাণিজ্য কেন্দ্র। সেই এলাকায় গড়ে ওঠা বাজারটি খাতুন বিবির নামে পরিচিতি পায় এবং ধীরে ধীরে খাতুনগঞ্জ নামে পরিচিতি পায়।
চাক্তাই খালের পাশে গড়ে ওঠা বাণিজ্য কেন্দ্রের গুরুত্ব ছিল চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, মসলা ও গমসহ নানা পণ্যের বড় অংশের বেচাকেনা হয় এই এলাকায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পণ্য কিনে নিয়ে যান। খাতুনগঞ্জের বাজার থেকে শুরু করে চাক্তাই, আছদগঞ্জ ও কোরবানিগঞ্জ মিলে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র।
"চাক্তাই খালের পূর্ব অংশে ভূমিকম্পের পর পলি জমে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়। সেই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বাণিজ্য কেন্দ্রের নাম খাতুনগঞ্জ।"
ইতিহাসবিদ হারুন রশীদ তাঁর গ্রন্থ *চিৎ-তৌৎ-গং*-এ উল্লেখ করেছেন, ভূমিকম্পের পর খালের পূর্ব অংশে পলি জমে নতুন ভূমি সৃষ্টি হয়। সেই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বাণিজ্য কেন্দ্রের নাম খাতুনগঞ্জ। সেই এলাকায় গড়ে ওঠা বাজারটি খাতুন বিবির নামে পরিচিতি পায়। ধীরে ধীরে সেই এলাকাটি খাতুনগঞ্জ নামে পরিচিতি পায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আছদগঞ্জ, কোরবানিগঞ্জ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হ্যারি ভেরেলস্ট, হেনরি ভ্যানসিটার্ট, খাতুন বিবি, হারুন রশীদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৬২ (ভূমিকম্পের বছর), ২ (এপ্রিল), ১৫ (বিকট শব্দ), ১৭৬৩ (বিবরণ প্রকাশের বছর), ৩১ (ডিসেম্বর), ৫৩ (জার্নালের খণ্ড), ২৬৫-২৬৯ (পৃষ্ঠা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!