📌 ৩০০ বছর আগে ইউরোপ থেকে হারিয়ে যাওয়া বাল্ড আইবিস পাখিকে আবার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় মাইক্রোবিমান চালিয়ে মানুষ পাখিদের নতুন এলাকায় পথ দেখাচ্ছেন। অস্ট্রিয়া থেকে ১৫টি পাখিকে স্পেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের লক্ষ্য ১০ বছরে ৩০০টি বন্য পাখি তৈরি করা
৩০০ বছর আগে ইউরোপের আকাশ থেকে হারিয়ে যাওয়া বাল্ড আইবিস পাখিকে আবার ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানীরা একটি বিপ্লবী পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। ছোট আকারের বিমান চালিয়ে মানুষ পাখিদের নতুন এলাকায় পথ দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি অস্ট্রিয়া থেকে ১৫টি বাল্ড আইবিসকে স্পেনের উত্তরাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এদেরকে একটি নতুন দলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সেখানে একটি স্বনির্ভর পাখির দল গড়ে তোলা, যারা ভবিষ্যতে নিজেরাই বংশবিস্তার এবং পরিযায়ী পথে যাতায়াত করতে পারবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩০০ বছর আগে ইউরোপের আকাশ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল বাল্ড আইবিস পাখি** — এখন বিজ্ঞানীরা মাইক্রোবিমান চালিয়ে এদেরকে নতুন এলাকায় পথ দেখাচ্ছেন।
- 📌 **অস্ট্রিয়া থেকে ১৫টি পাখিকে স্পেনের আলত এম্পোরদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে** — এদেরকে একটি নতুন দলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
- 📌 **২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের এলাকায় ৬০টি পাখির দল তৈরি হয়েছে** — আগামী এক-দুই বছরে প্রথম প্রজননজোড়া তৈরি হওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
- 📌 **পাখিদের মৃত্যুহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে** — ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 **১০ বছরে লক্ষ্য: ৫০টি প্রজননজোড়া এবং প্রায় ৩০০টি বন্য বাল্ড আইবিস** — অস্ট্রিয়া, স্পেন ও আলত এম্পোরদার প্রকল্পগুলো পরস্পর যুক্ত থাকবে।
📰 বিস্তারিত
বাল্ড আইবিস পাখি দেখতে বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয়। এরা মাথায় পালক কম থাকে, ঠোঁট লম্বা ও বাঁকানো। একসময় ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় এই পাখি দেখা যেত। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ড ও আবাসস্থল হারানোর কারণে একসময় ইউরোপ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যায়। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মরক্কোতে থাকা এদের শেষ বড় বন্য দলের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার থেকে কমে মাত্র ২৫০-এ নেমে এসেছিল।
বিজ্ঞানীরা বাল্ড আইবিস পাখিকে বাঁচাতে শুরু করেন বন্দী অবস্থায় প্রজনন ও প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে। অস্ট্রিয়া ও স্পেনের আন্দালুসিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠে সংরক্ষণ প্রকল্প। স্পেনের কাতালোনিয়ার আলত এম্পোরদা এলাকায় ২০২৪ সালে শুরু হয় নতুন প্রকল্পটি। ২০২৫ সালের মধ্যে সেখানে প্রায় ৬০টি পাখির একটি দল তৈরি হয়। ২০২৬ সালের মার্চে এদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা জীববিজ্ঞানী বার্নাত গারিগোস বলেন, বাল্ড আইবিস খুব বুদ্ধিমান ও সামাজিক পাখি। প্রতিটি পাখির আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে। নতুন কিছু দেখলেই ঠোঁট দিয়ে সেটি পরীক্ষা করে দেখে। মানুষের প্রতিও এদের ভয় কম। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এদের পরিযায়ী পথ শেখানো। অনেক পাখিই জন্মের পর প্রথমবার যখন পরিযানে যায়, তখন পথ চিনতে পারে না। এ কারণে মানুষকে তাদের ‘পালক মা-বাবা’র মতো কাজ করতে হচ্ছে।
ওয়ালড্রাপ প্রকল্পের প্রশিক্ষকেরা মাইক্রো বা অতি হালকা বিমানে উড়ে পাখিদের সামনে পথ দেখাচ্ছেন। পাখিরা সেই বিমান অনুসরণ করে নতুন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে এরই মধ্যে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রিয়া ও স্পেনের বিভিন্ন প্রকল্প একে অন্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। ফলে নতুন প্রকল্পটি আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারছে। এর সুফলও মিলছে — পাখিদের মৃত্যুহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
গারিগোসের মতে, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে আলত এম্পোরদা প্রকল্পে প্রথম প্রজননজোড়া তৈরি হওয়ার আশা করছেন। সাধারণত এই পাখি তিন-চার বছর বয়সে প্রজনন শুরু করে। প্রকল্পের এলাকায় এদের জন্য বাসা তৈরি করা হবে। এমনকি কিছু বাসা আংশিকভাবে মানুষ তৈরি করে দেবে, যাতে পাখিরা সেগুলো দেখে নিজেরা বাসা বানানো শিখতে পারে।
"বাল্ড আইবিস খুব বুদ্ধিমান ও সামাজিক পাখি। প্রতিটি পাখির আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে। নতুন কিছু দেখলেই ঠোঁট দিয়ে সেটি পরীক্ষা করে দেখে। মানুষের প্রতিও এদের ভয় কম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রিয়া, স্পেনের আলত এম্পোরদা, ইউরোপের কাতালোনিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বার্নাত গারিগোস (জীববিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ বছর (হারিয়ে যাওয়া), ১৫টি (পাখি), ৯ হাজার (পূর্বে), ২৫০ (বর্তমান), ৬০টি (পাখির দল), ২০ বছর (অভিজ্ঞতা), ১০ বছর (লক্ষ্য), ৫০টি (প্রজননজোড়া), ৩০০টি (বন্য পাখি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!