📌 প্রতারণা করে ফেললেও জীবনসঙ্গী কি বিশ্বস্ত হতে পারে? মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, এটি নির্ভর করে প্রতারণার ধরন ও অনুশোচনার গভীরতার ওপর। সিরিয়াল প্রতারকদের বিশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য, কিন্তু অনুতপ্ত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে
প্রতারণা করে ফেললেও জীবনসঙ্গী কি কখনো বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পড়েন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। মনোবিজ্ঞান ও সম্পর্কের গবেষণায় কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণার ধরন ও প্রতারকের অনুশোচনার স্তর নির্ধারণ করে যে, কতটা সম্ভাবনা থাকে একজনকে বিশ্বস্ত হতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকতে পারে অনুতপ্ত প্রতারকের বিশ্বস্ত হওয়ার — যদি তিনি সঙ্গীর মানসিক কষ্ট অনুভব করেন
- 📌 সিরিয়াল প্রতারকদের বিশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য — এদের মধ্যে নার্সিসিস্টিক বা অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি দেখা যায়
- 📌 ৩ ধাপে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বলেছেন ডা. সানজিদা: স্বীকৃতি, অনুশোচনা ও পুনর্গঠন
- 📌 থেরাপি ও দীর্ঘমেয়াদি সততার প্রমাণ দিলে মৃতপ্রায় সম্পর্কেও বিশ্বাসের বীজ বোনা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
মানুষের আচরণ পরিবর্তনশীল হলেও তা রাতারাতি ঘটে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, প্রতারণা মূলত একটি আচরণগত প্রকাশ। একজন প্রতারক যখন নিজের ভুলকে স্বীকার করে এবং সঙ্গীর মানসিক কষ্ট অনুধাবন করতে পারে, তখনই বিশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ডা. সানজিদা বলেন, ‘প্রতারণা করার পর যদি একজন সঙ্গী তার সঙ্গীর মানসিক ক্ষতির প্রতি সহমর্মিতা দেখায়, তবে তাঁর বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে প্রায় ৭০ শতাংশ। কিন্তু কেবল লোকলজ্জা বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত বললে, সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয় না।’
প্রতারণার তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে। প্রথমত, পরিস্থিতিতে পড়ে প্রতারণা — এই ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ বা দুর্বল মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। এদের অনুতপ্ত হওয়ার এবং পরবর্তীকালে সম্পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা বেশি। দ্বিতীয়ত, স্বভাবগত প্রতারক — এদের মধ্যে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বা অ্যান্টিসোশ্যাল টেন্ডেন্সি দেখা যায়। এদের অনুশোচনা থাকে না এবং বিশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তৃতীয়ত, থেরাপি দিলেও আচরণ পরিবর্তন করা কঠিন এদের জন্য।
ডা. সানজিদা বলেন, প্রতারণার পর সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। তবে যদি দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস না করে আচরণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘বদল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। যদি একজন সঙ্গী থেরাপি নিতে রাজি হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সততার প্রমাণ দেন, তবে মৃতপ্রায় সম্পর্কেও বিশ্বাসের বীজ বোনা সম্ভব। কিন্তু ক্ষমা করার অর্থ নয় যে আপনাকে আবারও প্রতারিত হলেও থেকে যেতে হবে।’
"প্রতারণা মূলত একটি আচরণগত প্রকাশ। মানুষ তখনই বদলাতে পারে, যখন তিনি নিজের ভুলটি নিজের চোখ দিয়ে দেখতে পান এবং সঙ্গীর মানসিক কষ্ট অনুধাবন করতে পারেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. সানজিদা শাহরিয়া (অধ্যাপক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (মনোরোগ বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ শতাংশ (অনুতপ্ত প্রতারকের বিশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!