📌 সিলেটের বড়লেখায় যৌতুকের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের পর গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনার তদন্তে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে তারা
সিলেটের মৌলভীবাজারের বড়লেখায় যৌতুকের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের পর গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করেছে তার পরিবার। মৃত্যুর আগে মুন্নির পক্ষ থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় নির্যাতনের বর্ণনা পাওয়া গেলেও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবারটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যৌতুকের দাবিতে ৫ লাখ টাকা আদায়ের পরও থামেনি নির্যাতন, উল্টো নতুন চাপ সৃষ্টি করা হয়
- 📌 মৃত্যুর আগে মুন্নি নিজের মোবাইল থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হুমকির বর্ণনা দেন
- 📌 মৃতদেহ বাথরুমের কাঠের বিমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে
- 📌 প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ এখনো হত্যা মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পরিবারের
- 📌 ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছে
📰 বিস্তারিত
বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের বাসিন্দা মুন্নির পরিবার জানায়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জা মিলে মুন্নির ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি বিদেশে স্বামীর জন্য গাড়ি কেনার অজুহাতে মুন্নির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম জানান, মেয়ের সংসারের সুখের কথা ভেবে তারা একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকাটা দিলেও নির্যাতন থামেনি। উল্টো ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য নতুন করে টাকা চাপানো হচ্ছিল। মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট মুন্নি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও বার্তায় বাবা-মাকে জানান যে তাকে যেকোনো মুহূর্তে মেরে ফেলা হতে পারে।
খবর পেয়ে মুন্নির বাবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কিছুক্ষণ পর এক জনপ্রতিনিধি তাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তারা বাথরুমের দরজার ওপর কাঠের বিমের সঙ্গে মুন্নির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও মুন্নি তার নির্যাতনের কথা ফোনে জানিয়েছিলেন, যা থেকে তার আত্মহত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো বলে মনে করছেন তারা।
মরদেহ নামানোর পর মুন্নির শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়। মুন্নির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি গায়েব হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি অভিযোগ করে যে ওই ফোনে নির্যাতনের ভিডিও, অডিও ও চ্যাট হিস্ট্রি রয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষা করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের খালাতো ভাই মাছুম আহমদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই প্রভাবশালী মহল ময়নাতদন্ত না করিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য থানায় চাপ সৃষ্টি করেন। পরিবারের অনড় অবস্থানের কারণে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও পুলিশ এখনো হত্যা মামলা গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে আসামিপক্ষ থেকে পরিবারটিকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
"মুন্নির মৃত্যু কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণে বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুড়িরগুল গ্রাম, বড়লেখা উপজেলা, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মরিয়ম আক্তার মুন্নি (২২), হাজী মকবুল আলী, রেনু বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ টাকা (যৌতুক), ২২ বছর (মুন্নির বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!