📌 বরগুনার তালতলী উপজেলায় অবস্থিত ৩০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার সাড়ে চার বছর পর এলাকার জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গত ধোঁয়া, বর্জ্য ও কয়লা পরিবহনের কারণে দুই নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় চিকিৎসক ও পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজানপাড়া গ্রামে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন টেংরাগিরী বনাঞ্চলের কাছেই নির্মিত ৩০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন শুরু হয়েছে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টিকারী এই প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজানপাড়া গ্রামে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হয় ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি
- 📌 বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা ৩০৭ মেগাওয়াট এবং প্রকল্পের ব্যয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা
- 📌 বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে টেংরাগিরী বনাঞ্চল ও কাছাকাছি এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে
- 📌 স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, বায়ুদূষণের কারণে গত দুই মাসে চর্মরোগী ও হাঁপানি রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে
- 📌 কয়লা পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় নির্গত বর্জ্যের কারণে পায়রা ও বিষখালী নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত
📰 বিস্তারিত
তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজানপাড়া গ্রামে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য গ্রামবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বায়ুদূষণের কারণে এলাকার মানুষ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্র ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাছেই অবস্থিত টেংরাগিরী বনাঞ্চল ও ইকোপার্কের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে। পরিবেশবিদরা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, নদীতে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কয়লা ব্যবহৃত হয়। কয়লা পরিবহনের সময় কিছু কয়লা ও গুঁড়া নদীর পানিতে মিশে যায়। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্যও সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ আমাদের নদী ও সাগরের পানির গুণমানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।’
‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাছেই সংরক্ষিত বন থাকলেও এটি কাগজে-কলমে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছিল। তবে বাস্তব পরিবেশ এ ছাড়পত্র দেওয়ার অনুকূলে নয় বলেই আমরা মনে করি।’ — রফিকুল ইসলাম মন্টু, উপকূল ও পরিবেশ বিষয়ে সাংবাদিক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্থানীয় চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, জেলেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০৭ (মেগাওয়াট ক্ষমতা), ৪ (শতাংশ শেয়ার), ৪ (হাজার কোটি টাকা ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!