📌 বাংলাদেশ ও ভারত আগামীকাল ঢাকায় আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেমে থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবে। দুই দেশ একমত হলে আগামী মাস থেকেই এই তিনটি ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য থেমে থাকা আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবে। এই বৈঠকটি ঢাকার রেল ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুই দেশ একমত হলে আগামী মাস থেকেই মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের মধ্যে তিনটি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশ রাজশাহী থেকে কলকাতার পথে একটি নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।
- 📌 ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী এক্সপ্রেসকে বর্তমানের যমুনা সেতুর বদলে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ।
- 📌 জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই তিনটি ট্রেনের চলাচল ১৯ জুলাই থেকে স্থগিত করা হয়েছিল।
- 📌 রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেছেন যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করার পাশাপাশি অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে।
📰 বিস্তারিত
দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এই বৈঠকটিকে বলা হয় আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক বা ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম)। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে যে ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ আবার চালুর প্রস্তাবনার সাথে সাথে রাতের বেলায় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার বিষয়েও জোর দিতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ থেকে আসবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
আইজিআরএম বৈঠক বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি গত বছর ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় স্থগিত করা হয় এবং ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
রেলের কর্মকর্তারা বলছেন যে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল এবং বাংলাদেশও ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। ভিসা স্বাভাবিক না হলে ট্রেনের যাত্রী পাওয়া যেত না বলেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করার বিষয়টি এগোয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে দুই দেশই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে শুরু করেছে।
করোনা মহামারির সময় মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল ২৬ মাস বন্ধ ছিল। দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিনে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা পথে বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয়েছিল এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে মিতালী এক্সপ্রেস ২০২২ সালের ১ জুন চলাচল শুরু করেছিল।
"যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুসহ অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। দুই দেশের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।" — রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বৈঠক স্থান), রুট সম্প্রসারণ: রাজশাহী-কলকাতা এবং পদ্মা সেতু পথ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ে সূত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: তিনটি ট্রেন (মৈত্রী, বন্ধন, মিতালী), ২৬ মাস বন্ধ (করোনায়), দুই দিনব্যাপী বৈঠক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!