📌 বাংলাদেশের বাজারে একই দেখতে তিন ধরনের ফল পাওয়া যায়—আতা, শরিফা ও নোনা। বৈজ্ঞানিক নাম ও স্বাদের পার্থক্য থাকলেও নাম নিয়ে রয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি। কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, আতা ও শরিফা একই প্রজাতির হলেও অঞ্চলভেদে নাম আলাদা। অন্যদিকে নোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির ফল হলেও প্রায়ই একে আতা বলে ভুল করা হয়
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে একই ধরনের দেখতে তিনটি ফলের দেখা মেলে—আতা, শরিফা ও নোনা। দোকানিরা একই ফলকে আলাদা আলাদা নামে চিহ্নিত করলেও স্বাদ ও গঠনে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য। এই বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে নামকরণের বৈচিত্র্য ও বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিভাগের জটিলতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই আতা ও শরিফা নামে পরিচিত দুই ধরনের ফল জন্মে, যা মূলত একই প্রজাতির (Annona squamosa)।
- 📌 অঞ্চলভেদে একই ফলকে কোথাও ‘আতা’, কোথাও ‘শরিফা’, আবার কোথাও ‘নোনা’ নামে ডাকা হয়।
- 📌 বৈজ্ঞানিকভাবে আতা ও শরিফা একই প্রজাতির হলেও গঠন ও স্বাদে রয়েছে পার্থক্য—আতা প্রায় গোলাকার ও স্বাদে নোনতা, শরিফা হৃদয়াকৃতির ও অধিক মিষ্টি।
- 📌 নোনা (Annona reticulata L) সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির ফল হলেও প্রায়ই একে আতা বলে ভুল করা হয়। এর খোসায় জালিকাকার নকশা ও স্বাদ কিছুটা পানসে।
- 📌 বাংলাদেশের প্রাচীন গ্রন্থ ‘আয়ূর্ব্বেদোক্ত উদ্ভিদ সংগ্রহ’-এ আতাকে ‘আতৃপ্য’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হিন্দিতে একে ‘শরিফা’ বলা হয়।
- 📌 ‘ত্রিপুরার গাছপালা’ গ্রন্থে নোনাকে ‘রামফল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যার বৈজ্ঞানিক নাম Annona reticulata L।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রায়শই দেখা যায় একই ধরনের দেখতে তিনটি ফল—আতা, শরিফা ও নোনা। দোকানিরা একই ফলকে আলাদা নামে চিহ্নিত করলেও স্বাদ ও গঠনে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, আতা ও শরিফা মূলত একই প্রজাতির (Annona squamosa), তবে অঞ্চলভেদে নাম আলাদা হয়ে গেছে। মাগুরার এক কৃষি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ফলকে কোথাও ‘শরিফা’, কোথাও ‘আতা’, আবার কোথাও ‘নোনা’ নামে ডাকা হয়।
বৈজ্ঞানিকভাবে আতা ও শরিফা একই প্রজাতির হলেও গঠন ও স্বাদে রয়েছে পার্থক্য। আতা প্রায় গোলাকার ও স্বাদে নোনতা, অন্যদিকে শরিফা হৃদয়াকৃতির ও অধিক মিষ্টি। অনেকের মতে, এই পার্থক্য গাছের বয়স ও মাটির ধরনের কারণে হয়ে থাকে। তবে সবাই এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। অনেকে দাবি করেন, আলাদা জাত বলেই স্বাদ ও গঠনে পার্থক্য দেখা যায়।
অন্যদিকে নোনা (Annona reticulata L) সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির ফল। এর খোসায় সূক্ষ্ম জালিকাকার নকশা থাকে, স্বাদ কিছুটা পানসে, এবং ফলের আকৃতি প্রাণীর হৃৎপিণ্ডের মতো। বৈজ্ঞানিক নামের ‘reticulata’ শব্দটি ফলের ওপরের জালিকার আকারকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের প্রাচীন গ্রন্থ ‘আয়ূর্ব্বেদোক্ত উদ্ভিদ সংগ্রহ’-এ আতাকে ‘আতৃপ্য’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হিন্দিতে একে ‘শরিফা’ বলা হয়। অন্যদিকে ‘ত্রিপুরার গাছপালা’ গ্রন্থে নোনাকে ‘রামফল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
"আতা আর শরিফা মূলত একই প্রজাতির ফল হলেও অঞ্চলভেদে নাম আলাদা হয়ে গেছে। বৈজ্ঞানিক নাম Annona squamosa হলেও গঠন ও স্বাদে পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে নোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির ফল হলেও প্রায়ই একে আতা বলে ভুল করা হয়।"
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামের এই বিভ্রান্তি দূর করতে ফলের খোসা ও গঠন দেখে চেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় বড় গোল খাঁজ থাকলে ও ফল প্রায় গোলাকার হলে তা আতা গোত্রের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খোসা মসৃণ, আকৃতি মানব হৃদয়ের কাছাকাছি ও স্বাদ অধিক মিষ্টি হলে তা শরিফা। অন্যদিকে খোসায় সূক্ষ্ম জালিকাকার নকশা ও স্বাদ পানসে হলে তা নোনা বলে চেনা যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: কৃষিবিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (আয়ূর্ব্বেদোক্ত উদ্ভিদ সংগ্রহ গ্রন্থে আতার উল্লেখ), ৪ ও ১২ (ত্রিপুরার গাছপালা গ্রন্থে নোনার উল্লেখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!