📌 খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা আশুতোষ নাথ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে ওষুধবিষয়ক গবেষণায় যোগ দিতে যাচ্ছেন। পিএইচডি শেষে তিনি নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করবেন। তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছে প্রথম আলো
খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা আশুতোষ নাথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে ওষুধবিষয়ক গবেষণায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন। পিএইচডি শেষে তিনি নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ছবিতে তাঁকে মা-বাবার সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি উদযাপন করতে দেখা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা আশুতোষ নাথ যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে পিএইচডি-পরবর্তী গবেষক হিসেবে যোগ দেবেন
- 📌 তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র হবে ওষুধবিষয়ক রসায়ন, যেখানে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কাজ করবেন তিনি
- 📌 ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে জৈব রসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন তিনি
- 📌 জীবনের শুরুতে অফিস সহকারী ও দোকানে কাজ করেছেন আশুতোষ
- 📌 ৩৪ বছর বয়সী আশুতোষের জন্ম চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে, বেড়ে ওঠেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে
- 📌 মাধ্যমিকে জিপিএ ৪.১৯ এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়েছিলেন তিনি
- 📌 স্নাতকে ৩.১৬ সিজিপিএ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.০৮ সিজিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হন
📰 বিস্তারিত
জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রামের সঙ্গী ছিলেন আশুতোষ নাথ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁর জন্ম হলেও পরিবারের অর্থনৈতিক অনটনের কারণে বাবা মিলন নাথ খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলে আসেন। সেখানেও জীবন সহজ ছিল না। ধান ভাঙার মেশিন চালিয়ে সংসার চালাতেন মা নিয়তী দেবী। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আশুতোষ ছিলেন সবার ছোট। তাঁর ভাই পরিতোষ নাথ পোশাক সেলাইয়ের কাজ করতেন এবং তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করতেন।
আশুতোষ বলেন, "ভাইয়ের জন্যই আমার সেরাটা দিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি।" তবে পরিবারের সাহায্য সত্ত্বেও জীবনের বিভিন্ন সময়ে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে পড়াশোনায় মন দিতে পারেননি বলে জানান তিনি। মাধ্যমিকে জিপিএ ৪.১৯ এবং উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।
উচ্চমাধ্যমিক শেষে আশুতোষ ভর্তি হন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে। সেখানে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। পড়াশোনার খরচ চালাতে চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারে কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে নিজের খরচ চালাতেন এবং বাড়িতে কিছু অর্থ পাঠাতেন।
২০১৪ সালে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে তিনি ঢাকায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি পান। ২০১৬ সালে সেই চাকরি শুরু করেন তিনি। তবে চাকরির বেতন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না বলে রাত জেগে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন তিনি। তিনি বলেন, "ছাত্র অবস্থায় এসব কাজ শিখেছিলাম। ২০১৮ সালে ফ্রিল্যান্সিং করে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি।"
স্নাতকে ৩.১৬ সিজিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ঢাকা কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রসায়নে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তিনি সেখানে ভর্তি হন। বুয়েটে ভর্তির পর তাঁর গবেষণায় আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালে তিনি ৩.০৮ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
পিএইচডি করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ২০২১ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে যান। শতভাগ শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টন থেকে জৈব রসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর এখন তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন।
"ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান। মানুষের চিকিৎসায় নতুন ও কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণায় সর্বোচ্চ অবদান রাখা আমার লক্ষ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশুতোষ নাথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ বছর, জিপিএ ৪.১৯, জিপিএ ৪.৫০, সিজিপিএ ৩.১৬, সিজিপিএ ৩.০৮
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!