📌 মলদ্বারের আস্তরণে ফাটল বা গেজ দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, কম আঁশযুক্ত খাবার বা প্রদাহজনক রোগের কারণে। ব্যথা, রক্তপাত ও চুলকানির মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া যত্ন ও নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সারানো সম্ভব
মলদ্বারের আস্তরণে ছোটখাটো ফাটল বা গেজ দেখা দিলে তাকে অ্যানাল ফিসার বলা হয়। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ বা প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগের কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘরোয়া যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিরাময় করা সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মলদ্বারের ফাটল বা গেজ সৃষ্টির প্রধান কারণ দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ
- 📌 মলত্যাগের সময় ব্যথা, মলের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রক্তপাত ও মলদ্বারে চুলকানি হলো প্রধান লক্ষণ
- 📌 ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আঁশযুক্ত খাবার বৃদ্ধি, প্রচুর পানি পান ও গরম পানিতে হিপ বাথ গ্রহণ করা যেতে পারে
- 📌 গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম, বোটুলিনাম টক্সিন ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে
📰 বিস্তারিত
মলদ্বারের ফাটল বা গেজ হলো মলদ্বারের আস্তরণের একটি ছোটখাটো ক্ষত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, স্থূলতা, প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ (যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস) এর প্রধান কারণ। এছাড়া বিলম্বিত প্রসবের পরেও অনেক নারীর এই সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এই সমস্যার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব করা, মলের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রক্তপাত হওয়া এবং মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি বা জ্বালা অনুভব করা। দীর্ঘস্থায়ী ফাটলের ক্ষেত্রে মলদ্বারের চারপাশে ত্বকের অংশে স্কিন ট্যাগ বা সামান্য পিণ্ড দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো চিকিৎসা না করলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, পুনরাবৃত্তি, সংক্রমণ এমনকি ফিস্টুলাও দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা প্রথমে রোগীর ইতিহাস পর্যালোচনা করেন এবং একটি শারীরিক পরীক্ষা করেন। এরপর প্রক্টোসকপি ও কোলনোস্কপির মাধ্যমে মলদ্বার ও বৃহদন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। প্রক্টোসকপি পদ্ধতিতে একটি আলোকিত টিউব ব্যবহার করে মলদ্বার ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করা হয়, আর কোলনোস্কপিতে পুরো বৃহদন্ত্র দেখার জন্য মলদ্বারে ক্যামেরাসহ একটি নমনীয় টিউব প্রবেশ করানো হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রোগীই ঘরোয়া যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বৃদ্ধি করা, প্রচুর পানি পান করা এবং দিনে কয়েকবার ১০-১৫ মিনিট গরম পানিতে হিপ বাথ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া মল সফটনার ব্যবহার করেও মল নরম রাখা যায়।
যদি উপসর্গগুলো ঘরোয়া প্রতিকারেও দূর না হয়, তাহলে চিকিৎসকরা পায়ুপথে ক্রিম বা মলম প্রয়োগ, বোটুলিনাম টক্সিন ইনজেকশন বা রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব ওষুধ মলদ্বারের স্ফিঙ্কটার পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। তবে সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
"মলদ্বারের ফাটল সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘরোয়া যত্নে নিরাময় হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ফাটলের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. এম এ করিম, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১৫ (মিনিট গরম পানিতে হিপ বাথ গ্রহণের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!