📌 যশোরের এক পরিবারের তিন প্রজন্মের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গী হয়ে টিকে আছে একটি ইংরেজ ব্র্যান্ডের সাইকেল। ১৯৪৬ সালে মাত্র তিন টাকায় কেনা এই সাইকেলটি এখনও চলছে, যা তিন প্রজন্মের ভালোবাসা ও যত্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে
যশোর শহরের এক সাধারণ পরিবারের তিন প্রজন্মের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গী হয়ে টিকে আছে একটি পুরোনো সাইকেল। ১৯৪৬ সালে মাত্র তিন টাকায় কেনা ইংল্যান্ডের ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের এই সাইকেলটি এখনও চলছে। পরিবারের তিন প্রজন্মের ভালোবাসা ও যত্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে এটি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৬ সালে যশোর শহর থেকে মাত্র তিন টাকায় কেনা হয়েছিল ইংল্যান্ডের ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের সাইকেলটি
- 📌 ইউসুফ আলী শেখ ছিলেন প্রথম মালিক, যিনি তহশিল অফিসে চাকরি করতেন
- 📌 আনসার আলী শেখ ছিলেন সাইকেলমিস্ত্রি এবং দীর্ঘদিন ধরে সাইকেলটি নিজের যত্নে রেখেছিলেন
- 📌 বর্তমানে ওয়াহেদ আলী শেখ (৫২) নামে তাঁর ভাতিজার ছেলে সাইকেলটি ব্যবহার করছেন
- 📌 সাইকেলটির মূল কাঠামো এখনও আগের মতোই রয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
১৯৪৬ সালে যশোর শহর থেকে মাত্র তিন টাকায় কেনা হয়েছিল ইংল্যান্ডের ‘র্যালি’ ব্র্যান্ডের একটি সাইকেল। সেই সময় ইউসুফ আলী শেখ নামে এক ব্যক্তি তহশিল অফিসে চাকরি করতেন। অফিসে যাতায়াতের জন্য তিনি এই সাইকেলটি ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের হাত ঘুরে সাইকেলটি এখন ব্যবহার করছেন তাঁর ভাতিজার ছেলে ওয়াহেদ আলী শেখ (৫২)। ওয়াহেদ আলীর বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামে।
ওয়াহেদ আলী জানান, তাঁর বাবা আনসার আলী শেখ ছিলেন ইউসুফ আলী শেখের ভাতিজা। ইউসুফ আলী ও পাচু শেখ ছিলেন দুই ভাই। পাচু শেখের তিন ছেলের মধ্যে আনসার আলী ছিলেন একজন। আনসার আলী ছিলেন সাইকেলমিস্ত্রি এবং কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল সড়কে তাঁর সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল। পরে তিনি গান্না সড়কে দোকান স্থানান্তর করেন।
আনসার আলী শেখ তাঁর বাবা ইউসুফ আলী শেখের কাছ থেকে সাইকেলটি পেয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাইকেলটি নিজের যত্নে রেখেছিলেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হলেও সাইকেলটির মূল কাঠামো এখনও আগের মতোই রয়েছে। আনসার আলী মারা যাওয়ার পর সাইকেলটি তাঁর বড় ছেলে ওয়াহেদ আলী শেখের হাতে আসে। ওয়াহেদ আলী সাইকেলমিস্ত্রি না হলেও বাবার মতোই যত্ন করে সাইকেলটি ব্যবহার করেন।
"বাবার কাছ থেকেই সাইকেলটি পেয়েছি। যত্ন করে ব্যবহার করছি। আশা করি, আরও অনেক বছর ব্যবহার করতে পারব।"
ওয়াহেদ আলীর ভাই আবদুস সামাদ জানান, তাঁদের বাবা আনসার আলী শেখ শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজেও সাইকেলটি ব্যবহার করতেন। এলাকার অনেকে প্রয়োজনের সময় তাঁর কাছ থেকে সাইকেলটি ধার নিয়ে যেতেন। কাজ শেষে আবার ফিরিয়ে দিতেন। তিনি বলেন, "বাবা সাইকেলটাকে খুব যত্ন করে রাখতেন। এখন বড় ভাইও বাবার মতো করে যত্ন করেন। সাইকেলটা দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এটা এত পুরোনো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর শহর, চাপালী গ্রাম, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওয়াহেদ আলী শেখ (৫২), আনসার আলী শেখ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ৩ টাকা, ৫২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!