📌 নোয়াখালীতে সাত বছর আগে হত্যার শিকার ওলি উদ্দিন ভূঁইয়ার পরিবার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা পিবিআই ও সিআইডির তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন
নোয়াখালীর চরমটুয়া ইউনিয়নের চর কাউনিয়া গ্রামে সাত বছর আগে হত্যার শিকার ব্রিকফিল্ড শ্রমিক ওলি উদ্দিন ভূঁইয়ার পরিবার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বৃহস্পতিবার নোয়াখালী প্রেসক্লাবের শহীদ উদ্দিন ইস্কান্দার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হত্যার প্রধান আসামি ফারুক মোবাইল ফোনে ওলি উদ্দিন ভূঁইয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান
- 📌 হত্যার পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চরউরিয়া এলাকার একটি বিল থেকে ওলি উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়
- 📌 পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে ফারুক, রাশেদ, সুজন ও মাহমুদ উল্লাহ পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটান
- 📌 ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা
- 📌 তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় বাদীপক্ষের বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের চর কাউনিয়া গ্রামের ব্রিকফিল্ড শ্রমিক ওলি উদ্দিন ভূঁইয়া হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় ছেলে আজাদ ভূঁইয়া, ছোট ছেলে রিয়াজ উদ্দিন ও পুত্রবধূ জেসমিন আক্তার। তাঁরা দীর্ঘ সাত বছরেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন।
আজাদ ভূঁইয়া জানান, ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক মোবাইল ফোনে তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় ওলি উদ্দিনের স্ত্রী সুরমাকে জানানো হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি মাহমুদ উল্যার সঙ্গে থাকা ঝামেলা মীমাংসা করা হবে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা ওলি উদ্দিনের আর কোনো খোঁজ পাননি। পরদিন থেকে একাধিকবার ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আজাদ ভূঁইয়া আরও জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়দের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চরউরিয়া এলাকার একটি বিলের মাঝখানে ওলি উদ্দিনের মতো একজনের মরদেহ পড়ে আছে। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে সোনাপুর সরকারি গোরস্থানে দাফন করে। ব্যবহৃত জামাকাপড় ও লুঙ্গি দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন, সেটি ওলি উদ্দিনের মরদেহ।
সংবাদ সম্মেলনে আজাদ ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের জানিয়েছিল চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ওলি উদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ এবং হাতের রগ কাটা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে ফারুক, রাশেদ, সুজন ও মাহমুদ উল্লাহ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন। আগে থেকে মাহমুদ উল্লাহ ওলি উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনার বিচার দাবিতে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে ফারুক, রাশেদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন আজাদ ভূঁইয়া। মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় বাদীপক্ষের বক্তব্য বিকৃত করে আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করার অভিযোগ করেন তিনি। পরে আদালত সিআইডিকে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আজাদ ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী আসামিরা প্রতিনিয়ত তাঁদের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে তাঁদের পরিণতিও তাঁর বাবার মতো হবে বলে ভয় দেখাচ্ছে। তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
"পূর্ব বিরোধের জেরে ফারুক, রাশেদ, সুজন ও মাহমুদ উল্লাহ পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করেছেন। প্রভাবশালী আসামিরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া বিচার সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চরমটুয়া ইউনিয়ন, নোয়াখালী সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজাদ ভূঁইয়া (নিহতের পুত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর, ১৯ জন আসামি, ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!