📌 রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পেছনে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর। মামলায় সোহেল রানা সহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে
রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পেছনে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর। ঢাকার সাভারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নকশাবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগে মামলায় সোহেল রানা সহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে রানা প্লাজা দুর্নীতিমূলক নির্মাণ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ।
- 📌 বিচারক রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবারের শুনানির পরিবর্তে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেন, কারণ বিভাগীয় স্পেশাল জজ তারিকুল কবীর ছুটিতে ছিলেন।
- 📌 মামলায় আসামি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোহেল রানা (জামিনে থাকলেও হত্যা মামলায় কারাগারে), রেফাত উল্লাহ (সাবেক সাভার পৌরসভার মেয়র), উত্তম কুমার রায় (সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা), রফিকুল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী), মাহবুবুর রহমান (সাবেক সহকারী প্রকৌশলী, পলাতক), রাকিবুল হাসান রাসেল (সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী), ফারজানা ইসলাম (সাবেক টাউন প্ল্যানার, পলাতক), এবং মো. আবদুল মোত্তালিব (লাইসেন্স পরিদর্শক)।
- 📌 মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে, যার ফলে ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং বহু শ্রমিক আহত হন।
- 📌 ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলায় ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়, যাদের মধ্যে সোহেল রানা এবং তার বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- 📌 মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটির নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পেছনে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর। মঙ্গলবার মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করা ছিল। তবে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা না করে মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেন একই আদালত। মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।
মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু শ্রমিক। ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রাথমিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
"রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার সাভার, রানা প্লাজা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোহেল রানা, বিচারক রফিকুল ইসলাম, রেফাত উল্লাহ, উত্তম কুমার রায়, মাহবুবুর রহমান, ফারজানা ইসলাম, মো. আবদুল মোত্তালিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর (যুক্তিতর্কের তারিখ), ১ সেপ্টেম্বর (রায়ের পর্যায় থেকে উত্তোলন), ২৪ এপ্রিল ২০১৩ (রানা প্লাজা ধস), ১ হাজার ১৩৬ জন (নিহত), ১৫ জুন ২০১৪ (মামলা দায়ের), ১৭ জন (প্রাথমিক আসামি), ১৮ জন (আসামি), ১০ জন (বিচার শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!