📌 যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে তিনটি প্রাচীন তেঁতুলগাছ দাঁড়িয়ে আছে যেগুলোর বয়স ৬৩০ বছর। এই গাছগুলো গ্রামবাসীদের প্রধান মিলনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিদিনের জীবনে তাদের গুরুত্ব অপরিসীম
যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে তিনটি প্রাচীন তেঁতুলগাছ দাঁড়িয়ে আছে যেগুলো কালের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। এই তিনটি বিশাল তেঁতুলগাছের বয়স ৬৩০ বছর বলে জানা যায়। যশোর শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই গ্রামে গাছগুলো গ্রামবাসীদের প্রধান মিলনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রাচীন তেঁতুলগাছের বয়স ৬৩০ বছর
- 📌 এই গাছগুলো গ্রামবাসীদের প্রধান মিলনস্থল, যেখানে প্রতিদিন বিকেলে বয়োজ্যেষ্ঠদের গল্পের আসর এবং তরুণদের আড্ডা হয়
- 📌 ৯২ বছর বয়সী সরোয়ার হাওলাদার বলেছেন, তিনি শৈশব থেকে এই গাছগুলো দেখছেন এবং স্মৃতি হাতড়ে বলেছেন যে গাছগুলো একই রকম দেখেছেন তার বাবা-দাদাও
- 📌 ৭০ বছর বয়সী ওলিয়ার রহমানের মতে, গত বছর একটিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ তেঁতুল হয়েছিল
- 📌 গ্রামের নামকরণের ইতিহাসের সাথে জড়িত জগদীশ ঘোষের নামানুসারে গ্রামের নামকরণ হয়েছে জগদীশপুর
📰 বিস্তারিত
প্রতাপশালী জমিদারের পতন ঘটলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের তিনটি বিশাল তেঁতুলগাছ। এই গাছগুলো যশোর শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গাছগুলো দেখতে গিয়ে প্রতিবেদক জানতে পারলেন যে, এই গাছগুলো গ্রামবাসীদের প্রধান মিলনস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিয়াবাড়ি থেকে জগদীশপুর গ্রামে যাওয়ার পথে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আম-কাঁঠাল আর লিচুর বাগান দেখা যায়। রাস্তার দুই ধারে বাড়িঘর প্রায় নেই বললেই চলে। এই সড়ক ধরে গিয়ে জগদীশপুর গ্রামে পৌঁছালে প্রকাণ্ড তেঁতুলগাছের তলায় দাঁড়াতেই ঝিরঝির বাতাসে শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য গোড়া বাঁধাই করা বেঞ্চে বসে অসংখ্য মানুষ শীতল হচ্ছেন।
৯২ বছর বয়সী সরোয়ার হাওলাদার বলেছেন, ‘জন্মের পর থেকে দেখছি এই তেঁতুলগাছগুলো একই রকম। আমার বাবা-দাদাও এই তেঁতুলগাছ একই রকম দেখেছেন। ছোটবেলায় প্রায় সারা দিনই এই তেঁতুলগাছের ডালে ডালে থাকতাম। আমি, আমার বন্ধু বরকত ও সাখাওয়াত মিলে প্রায়ই তেঁতুল পাড়তাম। ওই তেঁতুল বাড়িতে নিয়ে খেজুরের গুড়ে ভিজিয়ে রাখতাম। পরে সেই গুড়ে ভেজানো তেঁতুল হাতে নিয়ে গ্রাম ঘুরে খেয়ে বেড়াতাম।’
এই তেঁতুলগাছের পাশেই একটি মসজিদ রয়েছে। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা তেঁতুলগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে গল্প-আড্ডায় মিলিত হন। পাশেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আরেকটি প্রাচীন তেঁতুলগাছ রয়েছে। সেই গাছের নিচেও মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে চায়ের দোকান রয়েছে। এই তেঁতুলগাছের তলায় বসে মানুষ চা পান করতে করতে আড্ডা-গল্পে মেতে ওঠেন।
এই তিনটি তেঁতুলগাছের মধ্যে একটি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে আরেকটি বড় তেঁতুলগাছ রয়েছে। ওই গাছের তলায় বসে বিশ্রাম নেওয়া গ্রামের মানুষেরা কখনো মেপে দেখেননি গাছের উচ্চতা ও বেড় কত ফুট। গাছের তলায় পৌঁছে গাছের উচ্চতা ও বেড় কত জানতে চাইলে দুজন পাশের দোকান থেকে রশি এনে মাপা শুরু করলেন।
"আমার বাবা-দাদাও এই গাছটি এমনই দেখেছেন। যখন গাছে তেঁতুল ধরে, তখন গ্রামের লোকজন যে যার মতো পেড়ে খেতে পারে। এই গাছের মালিক কোনো একক ব্যক্তি নন। গত বছর ৪০ থেকে ৫০ মণ তেঁতুল হয়েছিল এই একটি গাছে।"
মিয়াবাড়ির সদস্য আ ন ম মোস্তাদুদ দস্তগীর জানান, অতীতে এক ইতালীয় উদ্ভিদবিশেষজ্ঞ এ এলাকায় এসেছিলেন এবং কার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে গাছগুলোর বয়স ৬৩০ বছর বলে জানা যায়। গ্রামটির নামকরণের ইতিহাসের বিষয়ে ৮০ বছর বয়সী শের আলী বলেন, ‘আমরা মুরব্বিদের কাছে শুনেছি, সাড়ে ছয় শত বছর আগে বুড়ি ভৈরব নদের বুক চিরে জেগে ওঠা চরে জগদীশ ঘোষ নামের এক ব্যক্তি প্রথম এ এলাকায় বসতি গড়ে তুলেছিলেন। সেই জনপদই আজ জগদীশপুর গ্রাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সরোয়ার হাওলাদার (৯২), ওলিয়ার রহমান (৭০), আ ন ম মোস্তাদুদ দস্তগীর (৫৭), শের আলী (৮০)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩০ বছর (গাছের বয়স), ২৬ কিলোমিটার (যশোর থেকে দূরত্ব), ৩০০ মিটার (দূরত্ব), ৪০ থেকে ৫০ মণ (তেঁতুলের পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!