📌 রাজধানীর আদাবর থানায় বসবাসকারী ৯০ বছর বয়সী শাহজাহান ও তার পরিবার খাবারের অভাবের মুখোমুখি। দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি থাকা সত্ত্বেও, ঋণ ও অসুস্থতার কারণে তাদের আয়ের কোনো উৎস নেই। তিন নাতির দায়িত্ব নিয়ে শাহজাহান দৈনন্দিন জীবনযাপন করছেন
রাজধানীর আদাবর থানার সামনে রিংরোড সড়কে বসবাসকারী ৯০ বছর বয়সী শাহজাহান মিয়া ও তার পরিবার খাবারের অভাবের মুখোমুখি। ২৬ আগস্ট বিকেল ৫টায় শাহজাহান প্যাডেল রিকশা চালিয়ে মাত্র ১৫০ টাকা আয় করেছেন। রিকশার মালিককে দিতে হবে ১০০ টাকা, ফলে হাতে থাকবে মাত্র ৫০ টাকা। এই টাকায় পরিবারের খাবার কিনতে পারছেন না তিনি। শাহজাহানের কথায়, ‘এই রিকশা চলে কম, মানু উঠতে চায় না। মিশিনেরডা চলে বেশি’। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি আগের মতো রিকশা চালাতে পারছেন না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯০ বছর বয়সী শাহজাহান ও তার পরিবার খাবারের অভাবের মুখোমুখি, রিকশা চালিয়ে মাত্র ১৫০ টাকা আয় করলেও খাবার কিনতে পারছেন না
- 📌 শাহজাহানের স্ত্রী রেনু বেগমের মাসিক ৫ হাজার টাকার আয় বন্ধ, দুই মাসের ৭ হাজার টাকার ঘরভাড়া বাকি
- 📌 শাহজাহানের মেয়ে মারা যাওয়ার পর তিন নাতির দায়িত্ব নিয়ে তিনি বয়স ও অসুস্থতার বোঝা বহন করছেন
- 📌 ১৫ হাজার টাকার ঋণ ও অসুস্থতার কারণে শাহজাহান এক সপ্তাহ ধরে রিকশা চালাতে পারছেন না
- 📌 রেনু বেগমের কথায়, ‘জুটলে খাবু, না জুটলে না খাবু’ — রাতের খাবারের কোনো নিশ্চয়তা নেই
📰 বিস্তারিত
২৬ আগস্ট বিকেলে শাহজাহান মিয়া প্যাডেল রিকশা চালিয়ে মাত্র ১৫০ টাকা আয় করেছিলেন। তার মধ্যে রিকশার মালিককে দিতে হয় ১০০ টাকা, ফলে হাতে থাকবে মাত্র ৫০ টাকা। এই টাকায় পরিবারের খাবার কিনতে পারছেন না তিনি। শাহজাহানের কথায়, ‘টেকা না থাকলে খাব কী, দেড় শ টেকা মারছি, মহাজনের কী দেব, বাড়িতে কী নেব’। শাহজাহানের পরিবার এক কক্ষের আধাপাকা ঘরে বসবাস করছেন। ঘরে রান্না করার মতো চাল-ডাল বা তরকারি কিছুই নেই। শাহজাহানের স্ত্রী রেনু বেগমের মাসিক আয় বন্ধ হওয়ায় সংসারের অভাব কিছুটা কমাতে পারছেন না তিনি।
শাহজাহানের পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী রেনু বেগম (৬৫ বছর) এবং তিন নাতি (১১, ৮ ও ৫ বছর বয়সী)। শাহজাহানের মেয়ে দু’বছর আগে অজানা অসুখে মারা যান। সেই মেয়ের স্বামী গত বছর মারা যান। তাদের তিন শিশুর দায়িত্ব এসে পড়ে শাহজাহানের ওপর। শিশুদের দাদা-দাদি তাদের দায়িত্ব নিতে চান না। ফলে বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে শাহজাহান নাতিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হন। শাহজাহানের নিজের এক ছেলে রয়েছে, কিন্তু তিন বছর আগে ছেলেকে আলাদা করে দিয়েছিলেন। ছেলেটিও অসুস্থ, তাই মা-বাবার তেমন খোঁজ নিতে পারেন না।
শাহজাহানের আয়ের প্রধান উৎস ছিল রিকশা চালানো। কিন্তু বয়সের কারণে তিনি আগের মতো রিকশা চালাতে পারছেন না। প্যাডেলে জোর পান না, ফলে যাত্রীরাও কম ওঠেন। শাহজাহান বলেন, ‘এই রিকশা চলে কম, মানু উঠতে চায় না’। এছাড়াও, দুই বছর আগে ছিনতাইকারীরা তাঁর রিকশা নিয়ে যায়। সেই রিকশার মূল্য পরিশোধ করতে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছিল। সুদসহ এখনো সেই টাকা শোধ করছেন তিনি।
শাহজাহানের স্ত্রী রেনু বেগমের মাসিক আয় বন্ধ হওয়ায় সংসারের অভাব কিছুটা কমাতে পারছেন না তিনি। সুনিবিড় হাউজিংয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের রান্না করে মাসে ৫ হাজার টাকা পেতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে ভবনটির কাজ বন্ধ থাকায় তাঁর আয়ও বন্ধ। এর মধ্যে দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি পড়েছে। এক কক্ষের ঘরটির মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা। দুই মাসে বকেয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। রেনু বলেন, ‘মালিক কইছে ভাড়া না দিলে তালা দেবু’। একদিকে খাবারের অভাব, অন্যদিকে ঘর হারানোর ভয়। তিন নাতিকে নিয়ে এরপর কোথায় যাবেন, সেই চিন্তাও আছে তাঁর।
"চেষ্টা করি বাবা, নিজে না খাইয়াও ছোট বাচ্চাগো খাওয়াতে"
শাহজাহান এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ থাকায় রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না। উপার্জন না থাকায় আজও ঘরে খাবার নেই। রেনু বেগমের কথায়, ‘আজও তাঁদের পরিবার না খেয়ে আছে’। দুপুরে আশপাশের মানুষদের কাছে খাবার চেয়েছিলেন, কিন্তু কাজ হয়নি। তাই দুপুরে পরিবারসহ ছিলেন না খেয়ে। তবে রাতে কী হবে, সেই চিন্তায়ও উদ্বিগ্ন তিনি। রেনু বেগম জানান, ‘কেউ দিলে রান্না হবে। না দিলে আজও খালি পেটে থাকতে হবে’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আদাবর থানা, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহজাহান মিয়া (৯০ বছর), রেনু বেগম (৬৫ বছর), তিন নাতি (১১, ৮, ৫ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০ টাকা (দৈনিক আয়), ১০০ টাকা (রিকশা মালিককে দিতে হয়), ৫০ টাকা (হাতে থাকা টাকা), ৩ হাজার ৫০০ টাকা (মাসিক ভাড়া), ৭ হাজার টাকা (দুই মাসের বকেয়া ভাড়া), ১৫ হাজার টাকা (ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!