📌 সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ২৫৯ বছর পুরনো শ্যামসুন্দর মন্দিরের অযত্নে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া অবস্থা। স্থানীয়রা বলছেন, একসময় মন্দিরে সোনার রাধা-কৃষ্ণের প্রতিমা ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি একটি নিরাপত্তাহীন, ক্ষতবিক্ষত ঐতিহাসিক স্থাপনা হয়ে দাঁড়িয়েছে
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ২৫৯ বছর পুরনো শ্যামসুন্দর মন্দিরের অযত্নে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া অবস্থা চোখে পড়ছে। স্থানীয়ভাবে এটি সোনাবাড়িয়া মঠ বা মঠবাড়ি নামে পরিচিত এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাস এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তির মধ্যে অন্যতম। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অযত্নে মন্দিরের দেয়ালের আস্তরণ খসে পড়েছে, সিঁড়ি ক্ষয়ে গেছে এবং গাছের শিকড় দেয়াল বেয়ে নেমে এসেছে। মন্দিরের চারপাশের পরিবেশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত, যা মন্দিরের ইতিহাস ও স্থাপত্য রক্ষায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫৯ বছর পুরনো শ্যামসুন্দর মন্দিরের অযত্নে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া অবস্থা দেখা যাচ্ছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে।
- 📌 ১৭৬৭ সালে নির্মিত এই নবরত্ন মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট, যার মধ্যে ১৬টি কক্ষ এবং চারপাশে টানা বারান্দা রয়েছে।
- 📌 মন্দিরের গায়ে থাকা প্রাচীন ইটের লিপি থেকে জানা যায়, রামেশ্বরের পুত্র হরিরাম দাস শ্যামসুন্দর বিগ্রহের জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।
- 📌 স্থানীয়রা বলছেন, একসময় মন্দিরে সোনার রাধা-কৃষ্ণের প্রতিমা ছিল এবং দোলযাত্রার সময় তৃতীয় তলায় দোলনা ঝুলিয়ে সেই প্রতিমা দোলানো হতো।
- 📌 মন্দিরের সিঁড়ি ও দেয়ালের কারুকাজ ক্ষয়ে গেছে, যা মন্দিরের ওপরে ওঠা খুব ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
📰 বিস্তারিত
সোনাবাড়িয়া গ্রামের মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে সোনাবাড়িয়া মঠ বা মঠবাড়ি নামে পরিচিত। স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাসের দিক থেকে এটি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তিগুলোর একটি। দক্ষিণমুখী মন্দিরটির পূর্ব পাশের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে অন্ধকার দেখা যায়। ভেতরে রয়েছে একাধিক কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় দক্ষিণমুখী একটি কক্ষ এবং তিন দিকে টানা বারান্দা। তৃতীয় তলায় মাঝখানে একটি কক্ষ এবং তার ওপরে গম্বুজ রয়েছে। প্রতিটি তলার চার কোণেও রয়েছে চৌকো গম্বুজাকৃতির ছোট ছোট কাঠামো।
মন্দিরের পাশ দিয়ে স্থানীয় মানুষের চলাচলে তৈরি হয়েছে সরু কাঁচা পথ। সামনে ঝোপঝাড়ে ঢাকা একটি পুরোনো পুকুর এবং পূর্ব কোণে মাটি ও গাছের শিকড়ে ভরা উঁচু একটি ঢিবি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের অযত্নে পুরো স্থাপনাটির চারপাশ অনেকটা জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। কলারোয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে সোনাবাড়িয়া গ্রাম অবস্থিত, যা সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে।
মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। মিজানুর রহমানের ‘সাতক্ষীরার পুরাকীর্তি’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, বুদ্ধদেবের শিষ্যরা এখানে একটি মঠ তৈরি করেছিলেন বলে একটি মত রয়েছে। তবে বৌদ্ধধর্মের প্রচার সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি এবং শিষ্যরা সোনাবাড়িয়া ছেড়ে চলে যান। পরিত্যক্ত মঠটি পরে হিন্দুরা পুনর্নির্মাণ করে মন্দিরে রূপান্তর করেন। ইতিহাসবিদ সতীশ চন্দ্র মিত্রের ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ১৭৬৭ সালে।
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা শ্রী মহাদেব কুমার বলেছেন, ‘আমি যখন ক্লাস টুতে পড়ি, তখন রতি ময়রা নামের ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাছে মন্দিরটির কথা জানতে চেয়েছিলাম। তিনিও বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকে স্থাপনাটি এমনই দেখে আসছেন। একসময় সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু বহু বছর কেটে গেলেও আর কাজ হয়নি।’ আরতি দে বলেছেন, ‘সিঁড়িগুলো ভেঙে যাওয়ায় এখন মন্দিরের ওপরে ওঠা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আগে যে গেট ছিল, তা এখনও নেই।’
"মন্দিরের গায়ে থাকা প্রাচীন ইটের লিপি থেকে জানা যায়, রামেশ্বরের পুত্র হরিরাম দাস শ্যামসুন্দর বিগ্রহের জন্য মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনাবাড়িয়া গ্রাম, কলারোয়া উপজেলা, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রী মহাদেব কুমার, আরতি দে, মিজানুর রহমান, সতীশ চন্দ্র মিত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫৯ বছর, ৬০ ফুট, ১৬টি কক্ষ, ৯ কিলোমিটার, ২৬ কিলোমিটার, ৮০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!