📌 ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলখানায় বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। জেল কর্মকর্তা আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান ও ডিআইজি খন্দকার আবদুল আওয়ালের প্রতিবেদনে বর্ণিত হয় বঙ্গভবনের অজানা আদেশের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলখানায় বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। এই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে জেল কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সম্পাদিত বই ‘পঁচাত্তরের অস্থির সময়: ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের অকথিত ইতিহাস’ থেকে এই ঘটনার দলিল প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ নভেম্বর ভোর ৩টায় বঙ্গভবন থেকে মেজর রশিদ জেল কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন যে, কিছু সেনাসদস্য বন্দীদের জোর করে নিয়ে যেতে পারে।
- 📌 আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান ও ডিআইজি খন্দকার আবদুল আওয়াল বঙ্গভবনের নির্দেশ অনুযায়ী জেলগেটে উপস্থিত হন, কিন্তু ঘটনার প্রকৃতি বুঝতে পারেন না।
- 📌 রিসালদার মোসলেহউদ্দিন চার নেতাকে গুলি করার আদেশ দিলে জেল কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
- 📌 রাষ্ট্রপতি মেজর রশিদের আদেশ অনুযায়ী রিসালদারের বন্দীদের গুলি করার ইচ্ছাকে অনুমোদন দেন।
- 📌 ৪ জন বন্দীকে আলাদা করে একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রিসালদার ও তাঁর বাহিনী তাদের গুলি করে হত্যা করে।
📰 বিস্তারিত
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর ৩টায় আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান বঙ্গভবন থেকে মেজর রশিদের ফোন পান। মেজর রশিদ জানান, কিছু সেনাসদস্য জেলগেটে যেতে পারে এবং বন্দীদের জোর করে নিয়ে যেতে পারে। নুরুজ্জামান জেল গার্ডদের সতর্ক করে দেন। এরপর মেজর রশিদ ফোন করে জানতে চান, জেলগেটে কোনো সমস্যা আছে কি না। নুরুজ্জামান ইতিবাচক জবাব দিলে মেজর রশিদ তাকে জেলগেটে যেতে বলেন।
নুরুজ্জামান ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের ডিআইজি প্রিজন খন্দকার আবদুল আওয়ালকে ফোন করেন এবং ঘটনার বিবরণ জানান। খন্দকার আবদুল আওয়ালও জেলগেটে উপস্থিত হন। এরপর মেজর রশিদ আরেকটি ফোন করেন এবং জানান, রিসালদার মোসলেহউদ্দিন জেলগেটে আসবেন এবং চার নেতাকে গুলি করার কথা বলবেন। নুরুজ্জামান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন।
রিসালদার মোসলেহউদ্দিন জেলগেটে উপস্থিত হন এবং চার নেতাকে গুলি করার কথা বলেন। জেল কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। মেজর রশিদ ফোন করে জানান, রাষ্ট্রপতি রিসালদারের বন্দীদের গুলি করার ইচ্ছাকে অনুমোদন দিয়েছেন। এরপর রিসালদার ও তাঁর বাহিনী চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করেন।
"আমি রাষ্ট্রপতিকে রিসালদারের বন্দীদের গুলি করার ইচ্ছার কথা জানাই। রাষ্ট্রপতি জবাব দেন, সে যা বলছে, তা-ই হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা সেন্ট্রাল জেলখানা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান, ডিআইজি খন্দকার আবদুল আওয়াল, মেজর রশিদ, রিসালদার মোসলেহউদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন বন্দী (সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!