📌 ইসলামে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহকে মুমিনের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দুনিয়ার প্রাচুর্যের প্রতি অনিয়ন্ত্রিত আসক্তিকে পরকালের পাথেয় ভুলে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র। ক্ষণস্থায়ী জীবনের জাঁকজমক মানুষকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে যে তারা আখেরাতের প্রস্তুতি ভুলে যায়। ইসলামে দুনিয়ার মোহকে মুমিনের প্রধান শত্রু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
🔴 ইসলামে দুনিয়ার মোহের প্রভাব
- 📌 পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পার্থিব জীবন তো ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
- 📌 মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যের আশঙ্কা করি না। বরং আমি আশঙ্কা করি যে তোমাদের কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য এমনভাবে আসবে, যেমন এসেছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০১৫)
- 📌 পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘আর তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখেরাতই হচ্ছে উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।’ (সুরা আ’লা, আয়াত: ১৬-১৭)
- 📌 পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পার্থিব জীবন তো খেলাধুলা ও তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ৩২)
📰 দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্তির উপায়
ইসলাম দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্তির জন্য ‘জুহদ’ বা আসক্তিহীনতার শিক্ষা দেয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তুমি দুনিয়ার প্রতি আসক্তিহীন হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১০২)
দুনিয়া হলো সেতুর মতো, যা পার হওয়ার জন্য। স্থায়ী বসতি গড়ার জন্য নয়। দুনিয়ার চাকচিক্যে বিভোর হয়ে গেলে মানুষ তার শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে যায়। ইসলামে দুনিয়াকে আখিরাতের ফসল ফলানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"দুনিয়া নিজে কোনো পাপের বস্তু নয়; বরং এর প্রতি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভালোবাসা ও পরকালকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতাই একে শত্রুতে পরিণত করেছে। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে, তার জন্য দুনিয়া কল্যাণকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মহানবী (সা.), মাহমুদ হাসান ফাহিম (শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আয়াত ১৮৫, ১৬-১৭, ৩২; হাদিস ৪০১৫, ৪১০২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!