📌 ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহু বিদেশী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন, আর আইজেনকট যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
ইসরাইলের নির্বাচন পর বিভক্ত রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো দল ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রেসিডেন্ট হারজগ বুধবার (৪ নভেম্বর) দলীয় নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কে হবে প্রধানমন্ত্রী — বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাকি তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রেসিডেন্ট হারজগ নির্বাচন পর সরকার গঠনের জন্য সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নতুন নির্বাচন এড়ানোর অনুরোধ করেছেন।
- 📌 নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলের নির্বাচন প্রভাবিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তিনি কাতারের সাথে অর্থের লেনদেন এবং নিজ দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
- 📌 আইজেনকট যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরাইলের অংশীদারত্ব নতুন করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা বলেছেন।
- 📌 আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নির্বাচনে সমর্থন বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট হারজগ ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।
- 📌 বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ইসরাইলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাচ্যুতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট হারজগ দলগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনের পর যখন কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই, তখন আমি সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী চিন্তা, সাহস এবং সদিচ্ছার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে ইসরাইল রাষ্ট্রই বিজয়ী হয়।’
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনের দিন নগদ অর্থভর্তি খামসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘কাতারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন’ কয়েকজন নেতা। তার নিজের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে স্থানীয় পর্যায়ের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, গাদি আইজেনকট প্রধান আরব দলের সমর্থন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অংশীদারিত্ব আরো গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ ও গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। একসাথে আমরা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নিতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলে দিতে পারি।’
বিরোধী দলের সবচেয়ে বামপন্থী দলটির প্রধান ইয়ার গোলান বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন-গভিরের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ইসরাইলের রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়কে ইসরাইলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাচ্যুতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
“সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব নয়। আমি সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী চিন্তা, সাহস এবং সদিচ্ছার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে ইসরাইল রাষ্ট্রই বিজয়ী হয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, গাদি আইজেনকট, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ আসনের সংসদ, ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু, ৪০০ কোটি ডলার মার্কিন সামরিক সহায়তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!