📌 পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল ২২০০ ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হওয়ার পর অভিযান জোরদার করে বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরোধ বজায় রেখেছে
পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল রোববার গভীর রাতে মাইক ফিরিয়ে বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। হেবরনের অন্তত ২২০০ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করে ইসরায়েলি সেনারা এলাকার অবরোধ জোরদার করেছে। ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ২২০০ ফিলিস্তিনিকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করে, তাদের মধ্যে ৬ জন শিশুও রয়েছে
- 📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণাঙ্গ অবরোধ’ জারি করে দিয়েছেন
- 📌 ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে
- 📌 হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পদক্ষেপ আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে
- 📌 হেবরন শহরে প্রায় ২ লাখ এবং গভর্নরেট জুড়ে ৬ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে
📰 বিস্তারিত
পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী গতকাল রোববার গভীর রাতে মাইক ফিরিয়ে বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি জানান, ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান ও তল্লাশির কারণে ২২০০ মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও নিশ্চিত করেন, প্রায় ২০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, হামাস-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।
শনিবার ফিলিস্তিনের দুই বন্দুকধারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এতে ইসরায়েলের দুই সেনা নিহত হন এবং ওই দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে পশ্চিম তীরে শত শত অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণাঙ্গ অবরোধ’ জারি করেন। হেবরনের বাসিন্দারা শহরে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার শহর থেকে বের হতেও পারছেন না।
হেবরনে ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টের কাছে আল জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে শব্দবিস্ফোরক গ্রেনেড ছোড়ে ইসরায়েলি সেনারা। ওই সময় সাংবাদিকেরা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ও যানবাহন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ধারণ করছিলেন।
পশ্চিম তীরের ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ঘটনাস্থলে থাকা আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোর মধ্যে উত্তরে জেনিন ও নাবলুস, মধ্যাঞ্চলে রামাল্লা, আল-বিরেহ, বিরজেইত ও পূর্ব জেরুজালেম এবং দক্ষিণে বেথলেহেম রয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে প্রায় ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
হালহুল এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন শিশু। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার ইসরায়েলের নির্বাচনের দিন পশ্চিম তীরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব সীমান্তপথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।
"হামাস-সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিজেদের এলাকায় ফিরতে দেওয়া হবে না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হেবরন, পশ্চিম তীর (ইসরায়েল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউসুফ আল-জাবারি (হেবরনের মেয়র), ইসরায়েল কাৎজও (প্রতিরক্ষামন্ত্রী), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২০০ (বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি), ৭০ (গ্রেপ্তার), ২ (নিহত ইসরায়েলি সেনা), ৬ (শিশু আক্রান্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!