📌 বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পালসেটাইল টিনিটাস রোগীর চিকিৎসায় নিউরোইন্টারভেনশন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হয়েছে। গাইবান্ধার রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মস্তিষ্কের রক্তনালীর ব্লক দূর করে তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ করা হয়েছে
বাংলাদেশে পালসেটাইল টিনিটাস নামক বিরল শ্রবণজনিত রোগের চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো সফলতা অর্জিত হয়েছে। নিউরোইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু গাইবান্ধার এক ব্যক্তির মস্তিষ্কের রক্তনালীর ব্লক দূর করে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পালসেটাইল টিনিটাস রোগীর হৃদস্পন্দনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ শোনা যায়
- 📌 গাইবান্ধার রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মস্তিষ্কের রক্তনালীর ব্লক দূর করে চিকিৎসা সম্পন্ন
- 📌 নিউরোইন্টারভেনশন পদ্ধতিতে স্ট্যান্টিং করে রোগীর পুরোপুরি সুস্থতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পালসেটাইল টিনিটাসের স্ট্যান্টিং চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন
📰 বিস্তারিত
পালসেটাইল টিনিটাস এমন একটি বিরল শ্রবণজনিত সমস্যা যেখানে রোগী নিজের হৃদস্পন্দনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ শুনতে পান। সাধারণ টিনিটাসের মতো নয়, এই সমস্যায় রোগীরা প্রায়শই 'শোঁ শোঁ', 'ধুপধাপ' বা স্পন্দনশীল শব্দ অনুভব করেন। নিউরোইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্যার পেছনে কানের সাধারণ কোনো সমস্যা নয়, বরং মস্তিষ্ক ও মাথার রক্তনালির অস্বাভাবিকতা দায়ী। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের শব্দে ভুগলেও অনেক রোগী সঠিক কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন না।
গাইবান্ধার রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কানে শো শো শব্দ অনুভব করছিলেন। তাঁর সাথে মাথায় অস্বস্তিও ছিল। ঘুমাতে পারতেন না বলে মারাত্মক অবসাদে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কয়েক লাখ টাকা খরচ হলেও কোনো উপকার পাননি। বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন তিনি। পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তাঁর মস্তিষ্কের ভেনাস সাইনাস ব্লক হয়েছে।
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু তাঁর মস্তিষ্কের রক্তনালীতে স্ট্যান্টিং করে ব্লক দূর করেন। বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সম্পন্ন হওয়া এই অপারেশনে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন রবিউল। তিনি জানান, পালসেটাইল টিনিটাসের অনেকগুলো কারণ আছে। বেশিরভাগ কারণ কানের সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও মস্তিষ্কের রক্তনালীর সমস্যাও দায়ী হতে পারে। তবে এই কারণগুলো প্রায়ই আলোচনায় আসে না বলে রোগীরা বছরের পর বছর ঘুরতে থাকেন।
"কানের মধ্যে শো শো, ভো ভো বা অস্বস্তিকর শব্দ যদি হৃদসম্পন্দনের সাথে পরিবর্তন হয় বা গলার কাছে রক্তনালীতে চাপ প্রয়োগ করলে যদি কানের শব্দ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমরা মনে করি আক্রান্ত ব্যক্তি পালসেটাইল টিনিটাসে আক্রান্ত। মস্তিষ্কের রক্তনালীর জন্য পালসেটাইল টিনিটাস হলে মস্তিষ্কের রক্তনালীর এনজিওগ্রাম বা ডিএসএ করে রোগ নির্ণয় করা যায়।"
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু আরও জানান, পালসেটাইল টিনিটাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হলো ভেনাস সাইনাস স্ট্যানোসিস বা ব্লক। এই ব্লকে স্ট্যান্ট বসিয়ে সংকুচিত ভেনাস সাইনাস খুলে দেয়া হলে প্রেসার কমে যাওয়ায় কানের শব্দ ভালো হয়ে যায়। রবিউলের চিকিৎসায় তাঁরা ডিএসএ করে তাঁর ভেনাস সাইনাসে ব্লক দেখতে পান এবং পরে স্ট্যান্ট বসিয়ে ব্লক খুলে দেন। স্ট্যান্ট বসানোর পরই তাঁর কানের শব্দ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু, রবিউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কয়েক লাখ টাকা (চিকিৎসা ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!