📌 ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে বৃক্ষমেলার অনুমতি দিয়ে ডিএসসিসি ৬০টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃক্ষমেলার নামে খাবার, গয়না, শাড়ি ও খেলনার দোকান। দৈনিক তিন হাজার টাকা ভাড়ায় দোকান বসানো হচ্ছে
ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে বৃক্ষমেলার নামে বাণিজ্যিক দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পার্কটিতে ‘সবুজ আনন্দ মেলা ২০২৬’ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কটিতে বৃক্ষমেলার নামে খাবার, গয়না, শাড়ি, খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান বসানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএসসিসি পার্কটিতে ‘সবুজ আনন্দ মেলা ২০২৬’ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে, যা আগামী ৬ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
- 📌 মেলার দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. রনি জানান, পার্কের ভেতরে ৬০টি দোকান বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি দোকান ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে।
- 📌 প্রতিটি দোকানের জন্য দৈনিক তিন হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৩টি দোকান থেকে দিনে ৯৯ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
- 📌 ৬০টি দোকান পুরোপুরি বসলে ১০ দিনে ভাড়ার অঙ্ক দাঁড়াবে ১৮ লাখ টাকা।
📰 বিস্তারিত
গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের ভেতরে লাল, নীল ও সাদা ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া দোকান। বড় বড় গাছের গায়ে ও পাশে বাঁশ বেঁধে তৈরি করা হয়েছে সারি সারি দোকান। কোথাও ঝুলছে রঙিন হাতপাখা, কোথাও থালাবাসন। শিশুদের খেলনার পসরা, কৃত্রিম ফুল, নারীদের গয়না, চুড়ি ও ঘর সাজানোর সামগ্রী, খাবারের আয়োজন—কাবাব, মমো, পানিপুরি, আইসগোলা, লাইভ রোলার আইসক্রিম, ডাবের পুডিং। বড় দোকানে সাজানো মিষ্টি, মুরালি, সন্দেশ ও জিলাপি। আছে জামাকাপড় ও শাড়ির দোকান। দুটি বক্সিং যন্ত্র ঘিরে কিশোর-তরুণদের ভিড়। এক পাশে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃক্ষমেলা করার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল সূত্র বলছে, সংগঠনটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তামজিদ ইমাম ও সদস্য সাদমান সাম্য এ অনুমতি নিয়েছেন।
সাদমান সাম্য বলেন, যথাসময়ে সিটি করপোরেশনের অনুমতি না পাওয়ায় বৃক্ষ নিয়ে কাজ করেন, এমন সবাইকে আনা সম্ভব হয়নি। মানুষকে আকৃষ্ট করতে গাছের পাশাপাশি খাবার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, মানুষের হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জায়গায় দোকান বসানো হয়নি।
"পার্কটাও যদি বাজার হয়, হাঁটব কোথায়? পুরান ঢাকায় খোলা জায়গা এমনিতেই নেই। এই ছোট পার্কটুকু মানুষ হাঁটা, বসা ও একটু স্বস্তির জন্য ব্যবহার করে। এখন এখানেও যদি বাঁশ গেড়ে বাজার বসানো হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রনি, তামজিদ ইমাম, সাদমান সাম্য, কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০টি (দোকান অনুমতি), ৩৩টি (বসানো দোকান), তিন হাজার টাকা (দৈনিক ভাড়া), ৯৯ হাজার টাকা (দিনে আয়), ১৮ লাখ টাকা (১০ দিনে আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!