📌 দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে ৮৭ টাকায় আমদানি করা মাল্টা বাজারে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুল্ক-কর, পরিবহন খরচ ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম পাঁচ গুণ বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রকোপে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়েও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি ৮৭ টাকায় আমদানি করা মাল্টা বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ আমদানি মূল্যের তুলনায় দাম পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। শুল্ক-কর, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কারণে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমদানি পর্যায়েই মূল্যবৃদ্ধির বড় অংশ তৈরি হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি ৮৭ টাকায় আমদানি করা মাল্টা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দামে
- 📌 মাল্টার ওপর মোট শুল্ক-কর ১২১.৭৮ শতাংশ — এর মধ্যে রয়েছে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর
- 📌 বন্দর থেকে খালাসের পর প্রতি কেজি মাল্টার ব্যয় দাঁড়ায় ১৯৩ থেকে ১৯৪ টাকা — পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত
- 📌 জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানিকারকদের লোকসান হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে — সেপ্টেম্বরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম দ্রুত বেড়েছে
- 📌 ডেঙ্গু প্রকোপের কারণে চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়েও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি ৭০ সেন্টের দরে আমদানি করা মাল্টা বাংলাদেশে ৮৭ টাকায় পৌঁছায়। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা। অর্থাৎ আমদানি মূল্যের তুলনায় দাম পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্যবৃদ্ধির বড় অংশ তৈরি হচ্ছে আমদানি পর্যায়েই। কারণ, মাল্টার ওপর মোট শুল্ক-কর ১২১.৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অগ্রিম আয়কর।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর পড়ে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ বন্দর থেকে খালাসের সময়ই প্রতি কেজির ব্যয় দাঁড়ায় ১৯৩ থেকে ১৯৪ টাকা। মাল্টা আসে হিমায়িত কনটেইনারে। বন্দর থেকে গুদামে নেওয়া, কনটেইনার ও পরিবহনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা যোগ হয়। ফলে সরাসরি হিসাবেই ব্যয় দাঁড়ায় ২০৪ থেকে ২০৯ টাকা কেজি। তবে আমদানিকারকদের বক্তব্য, পচনশীল পণ্যে এ হিসাবই শেষ কথা নয়। ফল নষ্ট হওয়া, কনটেইনার ও বন্দরসংক্রান্ত খরচসহ সব মিলিয়ে তাঁদের প্রকৃত ব্যয় কেজিতে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত হয়।
বন্দর থেকে খালাসের পর মাল্টা যায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে। আমদানিকারকের কাছ থেকে পাইকার এবং সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতার হাতে পৌঁছায় ফল। প্রতিটি ধাপেই বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম বদলায়। চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পাইকারিতে মাল্টা বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। এরপর দ্রুত দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ১৫ কেজির কার্টন ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ পাইকারিতেই দাম ওঠে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। গত বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়।
"জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানিকারকদের অনেকে লোকসান করেছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে আমদানি কমে যায়। সেপ্টেম্বরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে। এখন নতুন চালান আসায় দাম আবার কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে।"
আমদানিকারক এইচআর করপোরেশনের কর্ণধার মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন বলেন, শুল্ক-কর, বন্দর মাশুল ও কনটেইনার পরিবহন—সব খরচই বেড়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য, আমদানিকারক বা পাইকারি পর্যায়ের দামের তুলনায় খুচরায় অনেক ক্ষেত্রে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফলের করভার বেড়েছে কয়েক বছরে আমদানি করা ফলের ওপর সব সময় এত বেশি শুল্ক-কর ছিল না। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টাসহ বেশ কিছু ফলের মোট করভার ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ। ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০২২ সালের মে মাসে ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে করভার আরও বাড়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একপর্যায়ে তা ১৩৬.২০ শতাংশে উঠেছিল। পরে কিছুটা কমানো হয়। বর্তমানে কমলা, মাল্টা, আপেল ও আঙুরের মতো বেশ কিছু ফলে মোট করভার ১২১.৭৮ শতাংশ। ফলে বিদেশে মাল্টার দাম না বাড়লেও শুধু করকাঠামোর কারণে দেশে প্রবেশের আগে তার দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, ঢাকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (আমদানিকারক), ব্যবসায়ীরা (চট্টগ্রামের ফলমন্ডি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ টাকা (আমদানি মূল্য), ৫২০ টাকা (বাজার মূল্য), ১২১.৭৮% (শুল্ক-কর), ১০৭ টাকা (শুল্ক-কর ব্যয়), ২৩০-২৪০ টাকা (আমদানিকারকের প্রকৃত ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!