📌 ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় আসামি রুবেল ইসলাম রুবেল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলায় ভুক্তভোগী ছিলেন ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় আসামি রুবেল ইসলাম রুবেল রানাকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিচারক আলী মনসুরের রায় অনুযায়ী, আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯ ধারায় সাজা প্রদান করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর রুবেল ইসলাম রুবেল রানা অপহরণ ও ধর্ষণ করে।
- 📌 আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।
- 📌 অপহরণের অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
- 📌 আসামি রুবেল ইসলাম রুবেল রানা পলাতক ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
- 📌 মামলা নম্বর ১ এবং জিআর মামলা নম্বর ৬১ হিসেবে ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর রুহিয়া থানায় দায়ের করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ের অটো চার্জার স্ট্যান্ডে ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে রুবেল ইসলাম রুবেল রানা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। আসামি তাকে একটি অজ্ঞাত বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরপরই কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৮ নভেম্বর রাত ২টা ১৫ মিনিটে কিশোরী একা বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানান। পরিবার হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং পরে রুহিয়া থানায় মামলা করেন।
বিচার চলাকালে আদালত মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে আসামির সম্পদ নিলামে বিক্রি করে অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, আসামি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে অথবা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে, যেটি আগে ঘটবে, সেই তারিখ থেকে তার সাজা কার্যকর হবে।
"আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামি বা তার বিদ্যমান সম্পদ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢোলারহাট বাজার, রুহিয়া, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুবেল ইসলাম রুবেল রানা, বিচারক আলী মনসুর, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান বাদল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!