📌 বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআই দ্বীপের দেওয়া তথ্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। তাহসিফের বাবা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। ঘটনার রাতে তাহসিফকে কেউ ধাওয়া দিয়েছিল কিনা — এই প্রশ্নে দ্বীপের বিবরণের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পিবিআই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিবিআই দ্বীপের বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়, তদন্ত চলছে মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে
- 📌 তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম সন্দেহ করেন ঘটনাটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে
- 📌 সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন
- 📌 মাজার বস্তি এলাকায় উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে
- 📌 ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাস্থল তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই কর্মকর্তারা ঘটনার বিবরণ নেওয়ার জন্য দ্বীপকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দ্বীপের সঙ্গে যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব জায়গায় নিয়ে গিয়ে পিবিআই তাদের বিবরণ নেয়। দ্বীপ বলেন, ‘দূর থেকে আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। আমি পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকি এবং আশা করি তারা আমাকে দেখতে না পায়। আমি হেঁটে হেঁটে আসি, দৌড় দেইনি।’
পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দ্বীপ তুরাগ নদের পাশের মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তাদের ধাওয়া করে। দ্বীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন তিনি। কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এখনো তার বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছি না। মামলার অন্যান্য দিকগুলো মাথায় রেখে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’
পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দ্বীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতেই তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘তাহসিফ সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা — এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। রহস্য উদ্ঘাটন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম দ্বীপের বক্তব্য মানতে রাজি নয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সাঁতার জানতেন। ও পাইলট ছিলেন। সাঁতারের ওপর বড় ধরনের কোর্স করা আছে তার। তাহলে কেন তাকে ধাওয়া দিতে যাবে? এগুলো বাজে কথা। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মাজারসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের মালিক জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কে পড়ে ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তাহসিফ। সেদিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানা এলাকার রাজবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
"আমি দৌড় দেইনি, হেঁটে হেঁটে আসি। আমাদের কয়েকজন ধাওয়া দেয়। ভাই (তাহসিফ) দৌড় দেন। আমি তখন পিলারের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং আশা করতে থাকি দুজন ইউনিফর্ম পরা লোক আমাকে দেখতে না পায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তুরাগ নদ, রাজবাড়ী ঘাট, টঙ্গী পশ্চিম থানা, মাজার বস্তি, রাজধানীর উত্তরার বাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেএম তাহসিফ সাউরি, শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ, একেএম এনায়েতুল করিম, মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান, জুবায়দা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ অক্টোবর, ২৯ নম্বর, ৫০ গজ, ১৫-২০ মিটার, ১টা ৩৫ মিনিট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!