📌 প্রথম আলো প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ রংপুর। আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)—কাউনিয়া হারাগাছ পৌরসভা, বিবাহিত। সোমবার সন্ধ্যায় র্যাব-১ সহায়তায় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার—প্রায় দুই মাস আত্মগোপনের পর। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রেম। গত বছরের ২ ডিসেম্বর রংপুর আদালত এলাকার লেকের পাড়ে দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে বলে জানান—পরে ধুমগড়ায় স্ত্রী পরিচয়ে রাত কাটান; একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক। ২৪ এপ্রিল প্রতারণা প্রকাশ—বিবাহিত বলে জানান, টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার প্রস্তাব ও গোপন ভিডিও ছড়ানোর হুমকি। ৬ মে আদালতে মামলা, ১২ মে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা। তদন্তকারী এসআই রুহুল আমীন, ভারপ্রাপ্ত অশোক চৌহান।
রংপুরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার যুবকের নাম আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)—রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত—নিজের বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বছরের ২ ডিসেম্বর স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে 'বিয়ে' হয়েছে বলে জানান—পরে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক। ২৪ এপ্রিল প্রতারণা বুঝতে পেরে ছাত্রী আজমাইনের বাড়িতে গেলে তিনি জানান—বিবাহিত, বিয়ে করতে পারবেন না; টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার প্রস্তাব ও গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- গ্রেপ্তার: আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)—কাউনিয়া উপজেলা, হারাগাছ পৌরসভা, রংপুর; বিবাহিত।
- গ্রেপ্তার স্থান ও সময়: সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা—র্যাব-১-এর সহায়তায়; প্রায় দুই মাস আত্মগোপনের পর।
- ভুক্তভোগী: এক কলেজছাত্রী—বাদী হয়ে ৬ মে রংপুর আদালতে মামলা।
- প্রেম: ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের মাধ্যমে—প্রথমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পরে সম্পর্ক।
- স্ট্যাম্প স্বাক্ষর: গত বছরের ২ ডিসেম্বর রংপুর আদালত এলাকার পাশে একটি লেকের পাড়ে—দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে 'বিয়ে' হয়েছে বলে জানান।
- ধর্ষণ: হারাগাছের ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাত কাটান; পরে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক।
- প্রতারণা প্রকাশ: কাবিননামার কাগজ দেখাতে চাইলে আজমাইন এড়িয়ে যান; ২৪ এপ্রিল সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে—তিনি জানান বিবাহিত, বিয়ে করতে পারবেন না।
- হুমকি: টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার প্রস্তাব; গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি।
- মামলা: আদালতের নির্দেশে ১২ মে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা—ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান।
- তদন্তকারী: হারাগাছ থানার এসআই রুহুল আমীন।
- বর্তমান: মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর আদালতে—বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
'বিয়ের নামে প্রতারণা'—আজমাইন আবদুল্লাহর কৌশল
রংপুরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে রংপুরে এনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৬ মে ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে রংপুর আদালতে মামলা করেন।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম আজমাইন আবদুল্লাহ (২৬)। তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে—আজমাইন বিবাহিত। নিজের বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে আজমাইন ওই কলেজছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২ ডিসেম্বর স্ট্যাম্প স্বাক্ষর ও ধর্ষণ
মামলার আরজির বরাত দিয়ে এ বিষয়ে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন। তিনি জানিয়েছেন—গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের কথা বলে ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর আদালত এলাকার পাশে একটি লেকের পাড়ে নিয়ে যান আজমাইন। সেখানে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি স্ট্যাম্পে ওই তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলে তাঁকে জানান। পরে হারাগাছের ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে রাত কাটান। এরপর বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে একাধিকবার ওই তরুণীর সঙ্গে আজমাইন শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার দৃষ্টান্ত। আজমাইন কেবল একবার নয়—বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া একটি প্রতারণার কৌশল—যা আইনি বিয়ের পরিবর্তে একটি মৌখিক চুক্তির মতো দেখানো হয়েছিল। বাংলাদেশি আইনে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া বিয়ে স্বীকৃত নয়—বিয়ে নিবন্ধন আইন অনুযায়ী কাজি অফিসে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
২৪ এপ্রিল প্রতারণা প্রকাশ ও হুমকি
পরে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে আজমাইন বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান ওই ছাত্রী। তখন আজমাইন তাঁকে জানান—তিনি বিবাহিত, তাঁর স্ত্রী আছে। তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করতে পারবেন না।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তিনি তাঁকে (তরুণীকে) টাকার বিনিময়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে বিরক্ত করলে গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এই হুমকি একটি গুরুতর অপরাধ—যা 'নির্যাতনের হুমকি' ও 'ব্ল্যাকমেইল' হিসেবে আইনত শাস্তিযোগ্য। গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া সাইবার অপরাধ আইনের আওতায়ও পড়ে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইনের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণের মামলা হয় বলে জানিয়েছেন হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান। তিনি বলেছেন—মামলার পর আজমাইন আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাস ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। গতকাল র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে হারাগাছ থানায় আনা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজমাইনের প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকা দেখায় যে তিনি নিজের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন—এবং আইনের হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তাঁর ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে তিনি সম্ভবত দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। র্যাব-১-এর সহায়তায় গ্রেপ্তার দেখায় যে এই মামলায় পুলিশ ও র্যাব উভয় সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
'গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ের কথা বলে ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর আদালত এলাকার পাশে একটি লেকের পাড়ে নিয়ে যান আজমাইন। সেখানে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি স্ট্যাম্পে ওই তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলে তাঁকে জানান। পরে হারাগাছের ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে রাত কাটান।'—এসআই রুহুল আমীন, তদন্তকারী কর্মকর্তা, হারাগাছ থানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!