📌 ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ জামিন দিলে আইন-বিচারকে হালকা ভাবার ভয় দেখিয়ে কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছে। গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও আদালত জামিন প্রত্যাখ্যান করেছে
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির আজ রোববার (৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে একটি কিশোরের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই কিশোরের জামিন দিলে সমাজে আইন-বিচারকে হালকা ভাবার ভয় দেখিয়ে বিচারক বলেছেন, বিত্তবানরা এবং শিশুরা আইনকে সহজ ভাবতে পারে। এই ঘটনায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জামিন প্রত্যাখ্যান: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদি কিশোরের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
- 📌 বিচারকের সতর্কবার্তা: বিচারক বলেছেন, জামিন দিলে বিত্তবানরা আইনকে সহজ ভাবতে পারে এবং শিশুরা শাস্তি থেকে বাঁচতে পারে।
- 📌 গাড়িচাপায় মৃত্যু: ২৩ সেপ্টেম্বর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হন।
- 📌 অভিযুক্ত কিশোরের অবস্থান: কিশোরের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তিনি গাড়ি চালিয়েছিলেন।
- 📌 ১২ দিন হাজত: কিশোর ১২ দিন হাজত খাটছিলেন।
📰 বিস্তারিত
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে একটি প্রাইভেট কার দ্রুতগতিতে চলতে চলতে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনায় মেহেদীর ভাই মোক্তাদির ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে প্রথমে গাড়িচালক আকাশ মারক (৪৪) উল্লেখ করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে, আসলে গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন একজন কিশোর।
আজ রোববার আদালতে শুনানিতে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান জামিনের আবেদন করেন। তিনি বিচারককে বলেন, ‘সেদিন চালক কৌশলে বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়। ওই শিশু নির্দোষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগেই ৩ লাখ বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়েছি। বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি নেই।’ তবে বিচারক জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়ে যাবে। আইন-বিচারকে বিত্তবানেরা ও শিশুরা সহজ ভাববে।’
বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘হাজত খাটছে কত দিন?’ আসামিপক্ষের আইনজীবী উত্তর দেন, ‘আজ ১২ দিন হাজত খাটছে।’ বিচারক বলেন, ‘শিশুর কি আর লাইসেন্স থাকে?’ আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘ড্রাইভিং সিটে ওই শিশু ছিল না।’ কিন্তু বিচারক সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে সে ওই দিক থেকে বের হচ্ছে।’
গত ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। সেদিন জামিনের আবেদন দাখিল করা হলেও আদালত ২৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রাখেন। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর আংশিক শুনানি শেষে আজ উচ্চতর শুনানির দিন ধার্য রাখা হয়।
"এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়ে যাবে। আইন-বিচারকে বিত্তবানেরা ও শিশুরা সহজ ভাববে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮, বারিধারা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদি, আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান, মেহেদী হাসান (২৪), কিশোর, আকাশ মারক (৪৪)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (ট্রাইব্যুনাল নম্বর), ৩ লাখ/৫ লাখ টাকা (জরিমানা), ১২ দিন (হাজত), ২৩ সেপ্টেম্বর (ঘটনা), ২৪ সেপ্টেম্বর (আদালতের আদেশ), ২৫ সেপ্টেম্বর (জামিন শুনানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!