📌 শেরপুর পৌর শহরে একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হামলায় যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মালিক আব্দুল্লাহ আল রাফাতের অভিযোগে হামলাকারীদের মধ্যে ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা এবং প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে
শেরপুর পৌর শহরের ফলপট্টি এলাকায় একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলায় যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে শেরপুর থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও হামলায় শেরপুরে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- 📌 ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে মালিক আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়
- 📌 বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ৫০-৬০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে হামলা করে, শাটার বন্ধ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর
- 📌 ১ লাখ ১০ হাজার টাকা টেবিল থেকে চুরি করা হয় বলে অভিযোগ
- 📌 তরিকুল ইসলাম সম্রাট মিথ্যা অভিযোগের দাবি করে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শেরপুর পৌরসভার ফলপট্টি এলাকার ‘মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স’ ও ‘সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ প্রতিষ্ঠানে হামলা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাতের অভিযোগে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে মালিক আব্দুল মান্নানের কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল ও শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
দুই দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢোকে। তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তাঁর সন্তানদের খোঁজ করে এবং কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের শাটার বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় টেবিলে থাকা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মালিক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। তিনি দাবি করেন, যুবদলের নাম ব্যবহার করে সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করা হয়েছে এবং ভাড়া-বাণিজ্য করা হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তরিকুল ইসলাম সম্রাট এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় তাঁদের পারিবারিক জায়গা রয়েছে। ওই জায়গার পেছনেই আব্দুল্লাহ আল রাফাতের প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। তিনি দাবি করেন, মূলত তাঁকে সেখান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি নিজের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
"আমি শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের ফলপট্টি এলাকায় মহাসড়কের পাশে আমাদের পারিবারিক জায়গা রয়েছে। ওই জায়গার পেছনেই আব্দুল্লাহ আল রাফাতের প্রতিষ্ঠান। মূলত আমাকে সেখান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এই ঘটনায়।"
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে গতকাল দিবাগত রাতে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর পৌর শহর, ফলপট্টি এলাকা, বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তরিকুল ইসলাম সম্রাট (যুবদল নেতা), আব্দুল্লাহ আল রাফাত (প্রতিষ্ঠানের পরিচালক), এস এম মঈনুদ্দিন (শেরপুর থানার ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন আসামি, ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা, ১ কোটি টাকা চাঁদা, ১ লাখ ১০ হাজার টাকা চুরি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!