📌 কানাডায় শেখ নূর ইসলামের পরিবারের ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে ৫০ লাখ ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন উন্মোচিত হলেও এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের কর ও পুলিশ সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি
কানাডায় শেখ নূর ইসলামের পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য উন্মোচিত হলেও বাংলাদেশের কর ও পুলিশ সংস্থাগুলো এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করেছে, কিন্তু এখনো কোনো মামলা দায়ের বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিট শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন উন্মোচিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন এবং অবৈধ পণ্য আমদানির বিল।
- 📌 ২০১৮-২০২২ সময়কালে সিঙ্গাপুরের একটি রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২২ লাখ ডলার বাংলাদেশের রংকন হোম সলিউশনস লিমিটেড থেকে কানাডার ‘শেখ নূর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এ পাঠানো হলেও, কানাডা থেকে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আসেনি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 কানাডায় শেখ নূর ইসলামের পরিবারের নামে কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ রয়েছে, যা বাংলাদেশের কর নথিতে যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
- 📌 গুলশানের টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত গুদামের বাইরে সংরক্ষণ করার অভিযোগে সিল করা হয়েছে, তবে তদন্ত চলছে।
- 📌 শেখ নূর ইসলাম অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সালমান মুক্তাদিরের বিয়ে করার পর তাঁর সঙ্গে তাঁর মেয়ের আর কোনো সম্পর্ক নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে।
- 📌 অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিব বলেছেন, কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্থ নিলে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ হবে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের কানাডায় থাকা সম্পদ, ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য উন্মোচিত করেছে। এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রায় এক দশকের ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের একটি রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রংকন হোম সলিউশনস লিমিটেড থেকে কানাডার ‘শেখ নূর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এ প্রায় ২২ লাখ কানাডিয়ান ডলার পাঠানো হয়েছিল। তবে, কানাডা থেকে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আসেনি বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডায় একাধিক কোম্পানি, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ রয়েছে, যা বাংলাদেশের কর নথিতে যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, ঢাকার গুলশানে শেখ নূর ইসলামের সংশ্লিষ্ট টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিল করা হয়েছে। শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত গুদামের বাইরে সংরক্ষণের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। শেখ নূর ইসলাম অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সালমান মুক্তাদিরের বিয়ে করার পর তাঁর সঙ্গে তাঁর মেয়ের আর কোনো সম্পর্ক নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে।
“কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বা ঘোষণা ছাড়া বিদেশে অর্থ নিলে এবং তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।”
— অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিব
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গুলশান), কানাডা, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ নূর ইসলাম, সালমান মুক্তাদির, শাহ মো. আহসান হাবিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৩টি নথি, ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার, ২২ লাখ কানাডিয়ান ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!