📌 মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজিকে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও সহযোগী স্বপনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় কাজি হাবিবুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা চাপানো হয়
মুন্সিগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজিকে জোর করে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও তাঁর সহযোগী স্বপনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় কাজিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় রাজীব হোসেন অপুকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় কাজিকে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- 📌 কাজি হাবিবুর রহমানের বাসায় গিয়ে তাঁকে জোর করে কাজি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
- 📌 স্বপন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ইতি (২৫) কাজি হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে তাঁকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান তালাক নিবন্ধন করেছেন।
- 📌 প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়, টাকা না দিলে কাজি হিসেবে তাঁর লাইসেন্স বাতিল এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
- 📌 ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান বলেছেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তছলিম উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকায় গতকাল সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কাটাখালী এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন কাজি মো. হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা। ঘটনায় রাজীব হোসেন অপু ও তাঁর সহযোগীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে হাবিবুর রহমানের বাসায় গিয়ে তাঁকে কাজি অফিসে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে জোর করে মুক্তারপুর এলাকার একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
সেখানে স্বপন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১ অক্টোবর কাজি হাবিবুর রহমানের কার্যালয়ে তাঁকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন। এ নিয়ে হাবিবুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে কাজি হিসেবে তাঁর লাইসেন্স বাতিল এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাবিবুর রহমান টাকা দিতে রাজি হন। পরে অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ শাখায় নিজের হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে তিনি তা দেন। টাকা পাওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার রাতে হাবিবুর রহমান সদর থানায় মামলা করেন।
মামলায় রাজীব হোসেন অপুকে প্রধান আসামি করে তাঁর সহযোগী স্বপন (৩৫) ও সোহেলের (৪৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ছেলে নাহিদ হাসান বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে, সে বিষয়েও ভয় দেখানো হয়। এরপরও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করেছেন তাঁরা।
"আমাদের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে, সে বিষয়েও ভয় দেখানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা, পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজি মো. হাবিবুর রহমান, রাজীব হোসেন অপু, স্বপন, নাহিদ হাসান, ওসি মো. তছলিম উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (কাজির অভিজ্ঞতা), ২ লাখ টাকা (চাঁদা), ২৫ বছর (ইতি), ১ অক্টোবর (তালাক দিবস), ৩৫ বছর (স্বপন), ৪৫ বছর (সোহেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!